কিছু হতাশার গল্প শুনাই!

জার্মানিতে পড়তে আসার সিদ্ধান্ত আগে যে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা আবশ্যক!


১) আপনি দেশে অনেক ভাল জব করেন, বিশাল অফিস আপনার। এর মানে এই না আপনি এখানে আসার সাথেসাথেই অফিস জব পেয়ে যাচ্ছেন। পাবেন না তা না। তবে সেটা ক্ষেত্রবিশেষে সময়সাপেক্ষ। সেজন্য মানষিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে যে, অন্তত একবছর আপনাকে রেস্টুরেন্ট জব, ক্লিনিং ইত্যাদি ওড করতে হবে। এক-তিন সেমিস্টার যাওয়ার পর রিসার্চ এসিস্টেন্টশিপ ম্যানেজ করতে পারবেন যদি আপনি রিসার্চ অনেক ভাল বুঝেন তবেই।


২) জার্মানি আসা মানেই আপনার লাইফ সেটেল্ড ব্যাপারটা একদমই তা না। এখানে আসা মানে আপনার নতুন সংগ্রাম শুরু। কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে পারলেই আপনি জব পাবেন। একটা ব্যাপার চিন্তা করেন, দেশে যখন আমরা জবের জন্য প্রতিযোগিতা করি, প্রতিযোগিতা করি সিলেটের, চট্টগ্রামের অথবা ঢাকার একজনের সাথে।আই মিন, দেশি ভাই/আপুর সাথে দেশি ভাই/আপুর প্রতিযোগিতা। কিন্তু এখানে আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে আমেরিকান, কানাডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ান অথবা ইউরোপিয়ানদের সাথে। সত্যি বলতে, শুধুমাত্র আইটি ফিল্ড ছাড়া অন্য সেকটরে জব পাওয়া খুবই কঠিন। আমাদের শ্রদ্ধেয় এডমিন সাদ্দাম ভাই সেদিন বললেন, ২০১৩ সালে তাঁর সাথে বুয়েটের প্রায় ২০ জন এসেছিলেন। বুয়েটিয়ান প্রায় সকলেই দেশে ব্যাক করতে হইছে চাকরি না পেয়ে। আমি একজনকে ভালভাবে চিনি, বোটানিতে অনার্স মাস্টার্স, ইকোলজিতে পিএইচডি করেছেন। দীর্ঘদিন জব না পেয়ে শেষপর্যন্ত তাঁর ইউনিভার্সিটির একজন জার্মান প্রফেসরকে বিয়ে সেটেল্ড হইছে। এখন একটা ইউনিভার্সিটির ভাষা ইন্সটিটিউটে একটা ভাষা শিক্ষা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। আমার একটা লঙ্কান ফ্রেন্ড, ইঞ্জিনিয়ার, জার্মান ভাষায় পটু(সি১), স্টাডী শেষ করে অনেকদিন থেকে জব খুজছে, এখনো হয় নাই। আরো দুইতিন মাস দেখবে, না হলে একেবারে দেশে ব্যাক করবে।

সিমপ্লি, এখানে জব পাওয়া কঠিন। তাই, এটা মাথায় রাখতে হবে যে, স্টাডী শেষে আপনাকে দেশে ব্যাক করতে হতে পারে।

তবে, আপনি হাইলি স্কিল্ড হলে যে সাবজেক্টের ই হোন না কেন, জব আপনার হবেই।


৩) জার্মানরা নাক উঁচু জাতি। ইংলিশ বলতে চায় না। সে ইংলিশ বলতে বাধ্যও নয়। জবে গেলে তো জার্মান মাস্ট। তাই দেশে থেকে পারলে অন্তত এ২ পর্যন্ত শিখে আসুন।


৪) যারা দেশে টেনেটুনে পাশ করেন, তারা জার্মানিতে আসার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করুন। এখানে একেকটা কোর্সে পাশ করা দেশে একেকটা সেমিস্টার পাশ করার মতো। প্রচুর খাটতে হবে পাশ করতে হলে। ফাকিবাজি করে পাশ করা যাবেনা। একটা কোর্সে তৃতীয়বার পাশ করতে না পারলে ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে, আর ভর্তি বাতিল করলে দেশে ব্যাক করা ছাড়া উপায় নাই।


৫) এখানে খুবই ব্যস্ত সময় পার করতে হবে। স্টাডি, জব, রান্নাসহ সবকিছু ম্যানেজ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। চ্যালেঞ্জ নিতে চাইলে আপনাকে স্বাগত।


৬) অনেক ইমপ্লয়ার জব সার্কুলারে উল্যেখ করে দেয়, এখানে জব করতে হলে অমুক সাবজেক্টে ৩-৪ বছরের স্টাডি লাগবে। এখন আপনি যদি ব্যাচেলর এক সাব্জেক্টে করে মাস্টার্স অন্য সাব্জেক্টে করেন, তাহলে আপনি উক্ত জব পজিশনে আপনি এপলাই ই করতে পারছেন না। যথাসম্ভব নিজের ফিল্ডে আসুন।


৭) আপনার সাব্জেক্টের জব প্রস্পেক্ট কেমন এটা যাচাই করতে indeed, stepstone ইত্যাদি সাইট ঘেটে জব সার্কুলারগুলো দেখুন, ধারণা পেয়ে যাবেন।


৮) মোটা অংকের টাকা ধার করে আসবেন না। আসলে, আর যাই হোক, পড়াশোনা হবেনা।

সর্বশেষঃ বিদেশে আসার সিদ্ধান্তটি ভেবেচিন্তে নিন। অনেকে দেশে অনেক ভাল জব করতো, জব ছেড়ে এখানে এসেছে, এখন শুধুই আফসোস করে। আপনি হেরে গেলে শুধু আপনি না, আপনার পুরো ফেমিলি হেরে যাবে।


লিখেছেনঃ কফিল মাহমুদ

ন্যাশনাল এন্ড ইন্টারনেশনাল এডমিনিস্ট্রেশন, ইউনিভার্সিটি অব পোস্টডাম, জার্মানি।




ছবিঃ ইন্টারনেট

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।