জার্মানি আসার পর টাকা আনব্লক ও বিড়ম্বনাঃ ফিনতিবা!!

লিখেছেনঃ শাখ-ই-নবাত


শিরোনাম দেখে কঠিন কিছু মনে হলেও আদতে ব্যাপারটা তেমন নয়।ব্যাচেলর এ জার্মানিতে আসছি এক মাস এর উপর।আসার পর অফিসিয়াল কাজ কর্ম(ডর্ম কন্ট্রাক্ট,সিটি রেজিস্ট্রেশন,হেলথ ইন্সুরেন্স,ব্যাংক একাউন্ট) শেষ করে সর্বশেষ যখন টাকা আনব্লক এর জন্য জার্মানির পোস্ট ব্যাংক এর মাধ্যমে পাসপোর্ট লেজিটিমেশন(Legitimation) কাজ করতে গেলাম দেখা গেলো ডয়েচ পোষ্ট এর স্ক্যানার মেশিনে পাসপোর্ট স্ক্যান নিচ্ছে না।ড্রেসডেন সিটির এপার থেকে ওপার পর্যন্ত পর পর ৪ টা পোষ্ট ব্যাংক এ যাওয়ার পরও কোন ভাবে কিছুই হচ্ছিলো না এদিকে পোষ্ট ব্যাংকের অফিসাররাও ইংরেজি বলে না।পড়ে গেলাম মহাবিপদে।২ দিন শুধু এখান থেকে ওখানে দৌড়াতেই চলে গেলো।এদিকে সাথে থাকা ইউরো গুলোও কমে আসছে।কোন কিছুর উপায় বের করতে না পেরে অবশেষে ফিনতিবার কাস্টোমার সাপোর্ট এ ফোন দিয়ে সমস্যার সমাধান করলাম।আল্লাহ্‌র রহমতে ব্যাংক একাউন্ট ও এখন একটু স্বাস্থ্যবান হয়েছে।তো এখন লিখবো কিভাবে আমি সমস্যার সমাধান করেছিলাম বা অন্য আরো কি উপায় আছে এই সমস্যার সমাধান এ!!!


বলে রাখা ভালো পাসপোর্ট স্ক্যান না হওয়া রেয়ার কেস(ফিনতিবা থেকে ইনফো নিয়ে)।


১.ম্যানুয়াল লেজিটিমেশনঃ ডয়েচ পোষ্ট এর মাধ্যমে যেই লেজিটিমেশন করতে হয় সেটা মূলত অটোমেটিক।আর যখন এই অটোমেটিক লেজিটিমেশন কাজ করে না তখন ফিনতিবার সাথে যোগাযোগ করলে ওরা ম্যানুয়াল লেজিটিমেশন এর একটা ডকুমেন্ট ফিনতিবার একাউন্ট এর ডকুমেন্ট সেকশন এ অটো পাঠায় দিবে।তারপর সেই ডকুমেন্ট আর সাথে করে পাসপোর্ট,সিটি রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট নিয়ে আপনার সিটির DAK-Deutsche Angestellten Krankenkasse(German employees health insurance) অফিস অথবা আপনার ব্যাংক এ যেতে হবে।সেখানেই অফিসার আপনার ডকুমেন্ট গুলো নিজের মত গুছিয়ে ১০/১৫ মিনিটে কাজ করে দিবে।ব্যাস হয়ে গেলো।আমি এই প্রোসেসিং এর ৪ দিনের মাথায় টাকা আনব্লক করেছি।


বলাই বাহুল্য এই প্রসেসই আমার কাছে সহজ মনে হয়েছে।ফিনতিবার সাপোর্ট নাম্বার এ কল দেয়ার ৩০ মিনিট এর মধ্যে ম্যানুয়াল লেজিটিমেশন ডকুমেন্ট আমি পেয়েছিলাম।অন্যদের ক্ষেত্রে হয়ত একটু সময় সাপেক্ষ হতে পারে।ওহ আচ্ছা আপনি চাইলেই ইংরেজি অথবা জার্মান দুটোর যেকোনো একটায় সাপোর্ট অফিসার এর সাথে কথা বলতে পারবেন।


২.ডিরেক্ট ফিনতিবা অফিসঃ আপনি যদি ফ্রাঙ্কফুর্ট অথবা এর আশেপাশের বাশিন্দা হয়ে থাকেন তবে বলবো এই প্রসেস আপনার জন্যই।ফিনতিবার হেড কোয়ার্টার ফ্রাঙ্কফুর্ট এ আপনার পাসপোর্ট,সিটি রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট আর ফিনতিবা থেকে দেয়া ইনিশিয়াল লেজিটিমেশন ডকুমেন্ট নিয়ে চলে যান।ওরাই সব করে দিবে।


৩.সুতোর ব্যাংকঃ ফিনতিবার মাধ্যমে ব্লক এর কাজ আমরা যারা করেছি বা করছি সবাই জানি যে ফিনতিবা কাজ করে সুতোর ব্যাংক এর মাধ্যমে।তো এই সুতোর ব্যাংক এর হেড কোয়ার্টার হামবুর্গ এ।আপনি যদি এদিকের অথবা আসেপাশের বাশিন্দা হন তাহলে আগের মত পাসপোর্ট,সিটি রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট,ইনিশিয়াল লেজিটিমেশন ডকুমেন্ট নিয়ে ব্যাংক এ চলে যান।বাকি কাজ ব্যাংক কর্মকর্তার।


এই তিনটি উপায়েই পাসপোর্ট এর অনলাইন/অটোমেটিক লেজিটিমেশনের পাসপোর্ট স্ক্যান এর বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।ব্যাপার হলো আপনি কোন উপায়টি বেছে নিবেন।


শাখ-ই-নবাত

ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং(ব্যাচেলর)

ড্রেসডেন ইউনিভার্সিটি অব এপ্লাইড সায়েন্সে





Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।