জার্মানি এবং জার্মানদের নিয়ে বাংলাদেশীদের কিছু ভুল ধারনা


ভুল ধারনা

১। আমার নামের আগে বা পরে মোহাম্মদ শব্দ আছে তাই বলে মনে হয় আমার ভিসা পেতে অসুবিধা হবে।

আসল ঘটনা: আপনার নামের আগে বা পরে বা মধ্যখানে মোহাম্মদ বা অন্য কোন আরবি নাম থাকলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটা কোন ব্যাপার হয় না। আপনার মতো আরও না হলেও ৩০টা মুসলিম দেশ থেকে এমন নামওয়ালা ব্যক্তিরা জার্মানিতে প্রতিদিন আসতেছে। তাই নাম ইংরেজি বা আরবিতে তা কোন ব্যাপার না। আপনার যোগ্যতাই ভিসা পাবার ক্ষেত্রে মূল ব্যাপার।


ভুল ধারনা ২। মুখে বড় দাড়ি থাকলে অথবা জামা কাপড়ে প্র্যাকটিস করা কোন ধর্মীয় অনুসারীর (মুসলিম বা বৌদ্ধ) মতো মনে হলে হয়ত ভিসা হবে না।

আসল ঘটনা: মুখে বড় দাড়ি, ছোট দাড়ি বা মুখ শেভ করা থাকলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন সুবিধা অথবা অসুবিধা পাওয়া যায় না। অনেক প্র্যাকটিস করা বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিরা বাংলাদেশ থেকে স্বাভাবিকভাবে ভিসা নিয়ে জার্মানিতে এসেছে এবং এখনো প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ আসছে। দৈনন্দিন জীবনে জার্মানিতে অনারা প্রতিদিন নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে।


ধারনা ৩। জার্মানিতে এতই ঠাণ্ডা পড়ে যে এলকোহল খেতেই হবে, না খেলে এখানে চলা যাবে না। তাছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এলকোহল না খেলে সেখানে যাওয়া যাবে না।

আসল ঘটনা: জার্মানিতে প্রচুর জার্মান আছে যারা কোন এলকোহল খায় না। আবার প্রায় জার্মান কোন অনুষ্ঠান ছাড়া খুবই কম এলকোহল খায়। বরং আমরা যারা তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে এখানে আসি, তারা এমনভাবে এলকোহল খায় যে অনেক জার্মানরাও আশ্চর্য হয়ে যায়। এখানে প্রচুর বাংলাদেশী বা বিদেশী আছে যারা জীবনে কখনো কোনও এলকোহল খায় নাই। আবার এমন বাংলাদেশীও আছে উঠতে বসতে এমনভাবে এলকোহল খায় যেনও জন্ম থেকে সে এটা খেয়েই বড় হয়েছে। জার্মানির ঠাণ্ডা বা এখানকার কালচারে এলকোহল না খেলে কোন ভিন্ন চোখে দেখে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সন্মান করে। প্রতিটা অনুষ্ঠানেই যারা এলকোহল পান করে না তাদের জন্য কিছু না কিছু আলাদা ভাবে ব্যবস্থা করা থাকে (যেমন কোলা, শরবত ইত্যাদি)।


ধারনা ৪। জার্মানরা হিটলারকে খুব পছন্দ করে।

ভুল ধারনা: এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিটলারকে নিয়ে প্রশংসা করা বা এমন কিছু করা যা হিটলারের আদর্শকে উসকিয়ে দিবে এমন কিছু করা নিষিদ্ধ। এমন কি সাধারন জার্মানদের সামনে মজা করে বা ভুল করে হিটলারের প্রশংসা করলে তা খুব খারাপভাবে নেয়।

ধারনা ৫। জার্মানরা বাংলাদেশীদের চাইতে ইংরেজি কম জানে অথবা ইংরেজিতে কথা বলতে চায় না।

আসল ঘটনা: জার্মানরা ছোট কাল থেকেই স্কুলে আমেরিকান ইংরেজি শিখে থাকে। তাই আমাদের মতো আইএল্টস না করলেও যদি আপনি কোন জার্মানকে জিজ্ঞেস করেন সে ইংরেজি বলতে পারে কিনা সে বলবে সে অল্পসল্প ইংরেজি জানে। কিন্তু যখনই আপনি তার সাথে ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করবেন তার চমৎকার ইংরেজির উচ্চারন এবং কথার চোটে নিজেই বুঝতে পারবেন আমরা আসলে কতো খারাপ ইংরেজি বলি। জার্মানদের ভিতরে যাদের বয়স ৪৫+ শুধু তারা ছাড়া মোটামুটি জার্মানির সবাই কম বেশি ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। উপকার পেলে আমাদের এই BESSiG গ্রুপে আপনাকে ২০জন মেম্বারকে যোগ করিয়ে দেবার অনুরোধ রইলো। তাহলে চেষ্টাটা ভালো লাগবে।

লেখক Nur Mohammad


এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।