জার্মানিতে এসে ইউনিভার্সিটি পরিবর্তন


লিখেছেনঃ এন এইচ আশিস খান

MA in English and American Studies, Ruhr-Universität Bochum, Germany


জার্মানির ইউনিভার্সিটিগুলোতে এপ্লাই করার পর একাধিক ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার পাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। যদিও এই ঘটনা আমাদের বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেই বেশি ঘটে। অন্য দেশের স্টুডেন্টসদের সাথে কথা বলে জেনেছি যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওরা একটা নির্দিষ্ট ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করে, খুব বেশি হলে দুইটা।আমরা বাংলাদেশিরা বেশি ক্রিয়েটিভ বলেই হয়তো সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহারে আমাদের কেউ পিছনে ফেলতে পারে না। বেশি বেশি ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার পাওয়া যতোটা স্বস্তি এনে দেয় তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বেশিরভাগ সময়ই। কোন ইউনিভার্সিটির র‍্যাংকিং ভালো, কোন সিটিতে পার্ট-টাইম জবের সুযোগ বেশি, আমার সাবজেক্টের জন্য কোন ইউনিভার্সিটির রেপুটেশন ভালো এসব সিদ্ধান্তহীনতা অনেক নির্ঘুম রাতের কারণ হয়। অনেকে আবার এক ইউনিভার্সিটির অফার লেটার দেখিয়ে ভিসা পেয়ে এখন অন্য ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে চরম কনফিউশান আর অস্বস্তিতে আছেন। আসলে এতো কনফিউজড হওয়ার কিছু নেই। আপনি যদি ইউনিভার্সিটি পরিবর্তন নিয়ে এরকম মধুর(?) সমস্যায় পড়ে থাকেন তাহলে ভালো করে ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। কোনো একটা ইউনিভার্সিটিতে এনরোলড হয়ে মেট্রিকুলেশন নাম্বার পাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি ইউনিভার্সিটি পরিবর্তন করতে পারবেন। এক ইউনিভার্সিটির অফার লেটার দেখিয়ে ভিসা পাওয়ার পর জার্মানি এসে ইউনিভার্সিটি পরিবর্তন করাও কোনো সমস্যা না। আমি ব্যাক্তিগতভাবে চারটি জার্মান ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার পেয়েছিলাম। জার্মানি এসে পছন্দের ইউনিভার্সিটির শহরে দুই সপ্তাহ থেকে যেদিন ভার্সিটিতে এনরোলড হবো সেদিন বিকালে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পরদিন অন্য সিটিতে অন্য ইউনিভার্সিটিতে চলে আসি। এতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি। সমস্যা যা হতে পারে তা হলো আপনার রেসিডেন্স পার্মিট পাওয়াটা একটু বিলম্বিত হতে পারে। ইউনিভার্সিটি পরিবর্তন করার পর এম্বাসিকে মেইল করলে হয়তো এই সমস্যা এড়ানো যেতে পারে যা আমি করিনি। ফলস্রুতিতে স্বাভাবিক সময় এক মাসের পরিবর্তে রেসিডেন্স পার্মিট হাতে পেতে আমার পাঁচ মাস সময় লেগেছে। কিন্তু এটাও বড় কোনো সমস্যা না। এরকম সমস্যা হলে সিটি হল তথা রাঠহাউস আপনাকে পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস সরবরাহ করবে যাতে এখানে আপনার জীবনযাত্রা কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। সঠিক ইউনিভার্সিটি আর সিটি নির্বাচন করা সত্যি অনেক মানসিক পীড়াদায়ক ব্যাপার। এ জন্য সম্ভব হলে আপনি যেসব ইউনিভার্সিটির অফার লেটার পেয়েছেন অথবা যেসব শহর হতে পারে আপনার ভবিষ্যৎ ঠিকানা সেখানে পড়া বা বাস করা স্টুডেন্টদের সাথে ভালোভাবে কথা বলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে ইউনিভার্সিটি পরিবর্তন করা কোনো সমস্যা না। এক্ষেত্রে এধরণের স্টুডেন্টস গ্রুপগুলো অনেক বেশি কাজে আসতে পারে। গ্রুপে খুঁজলে আপনি আপনার অফার লেটার পাওয়া ইউনিভার্সিটির অনেক স্টুডেন্টসই পাবেন। এখানে থাকা সিনিয়র আর অভিজ্ঞরাও আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে সবসময়ই প্রস্তুত। এজন্য সংকোচ আর সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচালে না থেকে আপনাকে শুধু জিজ্ঞেস করতে হবে। চায়নিজরা তো আর এমনি এমনি বলে না- "কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে তুমি পাঁচ মিনিটের জন্য বোকা হবে আর না জিজ্ঞাসা করলে বোকা রয়ে যাবে আজীবন।"



এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ থেকে করতে পারেন

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।