জার্মানিতে জব খুঁজে পাওয়ার কিছু টিপস

লিখেছেনঃ পীযুষ সরকার



আমি এখন জার্মানিতে যে জবটি করছি এইটা আমার সেকেন্ড জব। এর আগে আমি একটা কোম্পানিতে সাড়ে চার বছর জব করেছি। কারণ জার্মানিতে বছর বছর জব চেঞ্জ করাটা অনেক বাজে ভাবে দেখে, তাই সবার চেষ্টা থাকা উচিত সর্বাধিক সময় কোনো জব এ থাকা। যাই হোক আজকে আমি যে টিপস গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সেটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া। পরিবেশ, পরিস্থিতি ভেদে এই টিপস গুলো আপনার কাজে নাও লাগতে পারে।


প্রথমে আসা যাক সিভি, আপনার সিভিটি কেমন হওয়া উচিত। সিভিটি জার্মান ভাষায় তৈরী করুন। তবে হাঁ আপনি যদি জার্মান না জানেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ইংলিশ ভাষায় তৈরী করুন, তা না হলে আপনাকে বিপদে পড়তে হবে ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনি অপমানিতও হতে পারেন। সিভিটি as short as possible and as informative as possible করার চেষ্টা করুন। জার্মানরা লম্বা সিভি পছন্দ করে না।


সিভি তো হলো এখন জব কোথায় খুঁজবেন। আপনি অনেক জব পোর্টাল পাবেন, আসলে ঘুরে ফিরে একটি জব, সব জব পোর্টাল এ দেওয়া থাকে। আমি পার্সোনালি stepstone পছন্দ করি, তাছাড়া xing সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা একাউন্ট খুলে নিতে পারেন।


সিভি হলো, জবের জন্য এপলাই করলেন, এখন ইন্টারভিউয়ের পালা। তবে ইন্টারভিউতে যাবার আগে জার্মানিতে কারা জব পোস্টিং করে তাঁদেরকে একটু চিনে নেওয়া দরকার। আপনি দুই ধরণের কোম্পানি থেকে জব পোস্টিং পাবেন, ১) সরাসরি কোম্পানি ২) রিকুটিং কোম্পানি।


ধরুন আপনি একটা কোম্পানি থেকে একটা ফোন কল পেলেন, আপনার সাথে ৩০ মিনিটস খুব কঠিন একটা আলোচনা হলো। আপনার স্যালারি এক্সপেক্টটেশনও জিজ্ঞেস করা হলো। আপনিও খুঁশিতে লাফ দিয়া উঠলেন, কারণ এটা আপনার ফার্স্ট জব ইন্টারভিউ, আপনি তো ফাঁটিয়ে ফেলেছেন।


আপনার আনন্দের বেলুনের হাওয়া ছেড়ে দিয়ে বলতে চাই, ঈদ এখনো অনেক দেরি, মাত্র না রোজা শুরু হলো। কারণ আপনি যে ফোন কল টি পেয়েছেন সেটা একটা রিকুটিং কোম্পানি থেকে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, রিকুটিং কোম্পানি এর সাথে ৯০% জব ইন্টারভিউ সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু না। তবে ১০% এর উপর ভিত্তি করে আসা রাখতেই পারেন। আর যদি সরাসরি কোম্পানি থেকে ফোন কল পান, বেপারটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিবেন। সাধারণত জব ইন্টারভিউ ২ টি ধাপে হইয়া থাকে, প্রথমে আপনাকে তাঁরা একটা টেলিফোন ইন্টারভিউ নিবে, দ্বিতীয় ধাপে আপনার সাথে সরাসরি ইন্টারভিউ হবে।


এখন ধরে নেন আপনাকে সরাসরি ইন্টারভিউ এর জন্য ডেকেছে। যদি আপনাকে ট্রাভেল কস্ট বাবদ একটা বড় এমাউন্ট পে করতে হয়, তাহলে ইন্টারভিউতে যাবার আগে সরাসরি জিজ্ঞেস করে নেন, কোম্পানি কি আপনার ট্রাভেল কস্ট বেয়ার করবে কিনা? যদি বলে না, আর এমাউন্ট অনেক বেশি হয়, লাইক ৫০€ এর বেশি, তাহলে আপনি সালাম দিয়া উল্টা দৌড় দিতে পারেন। আমি সাধারণত তাই করি, আপনারা চাইলে নিজের পকেট থেকে ট্রাভেল কস্ট বেয়ার করতে পারেন। এটা জার্মানির একটা কমন রুল, কোনো কোম্পানি যদি কাউকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকে তাহলে কোম্পানিকে ট্রাভেল কস্ট বেয়ার করতে হয়। শর্ত শুধু ১টি, কোম্পানি এবং আপনার সিটি এক না হলেই হয়।


ইন্টারভিউ নিয়ে আমার একটি এবং একমাত্র টিপ্, আর তা হচ্ছে আপনাকে যতটুকু জিজ্ঞেস করা হবে ঠিক ততটুকু বলুন। ডিটেলস এক্সপ্লানেশন এ কখনো যাবেন না, যেটা আপনার ইন্টারভিউকে একটা বরিং পর্যায়ে নিয়ে যাবে। জার্মানিতে যদি আপনাকে ইন্টারভিউতে ডাকে, তাহলে ধরে নিবেন, তারা আপনার সিভি খুব ভালো করে পড়েছে। তাই তাঁরা সব প্রশ্নের একটা কংক্রিট জবাব আসা করে।


এখন আসেন স্যালারি কত বলবেন, যেহেতু স্যালারি অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে, যেমন ধরেন সিটি, কোম্পানি, জব লেভেল ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই চেষ্টা করবেন সবকিছু স্টাডি করে স্যালারি ডিফাইন করতে, জার্মানিতে স্যালারি নিয়ে কোনো মুলা মুলি হয় না। আপনি যা বলবেন উনারা শুধু লিখে নিবেন। পরে শুধু জানিয়ে দিবে আমরা আপনাকে নিতে পারছি না।


আসা করছি আমার এই টিপস গুলো আপনাদের, বিশেষ করে যারা জার্মান জব মার্কেট নতুন প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, তাদের কিছুটা হলেও কাজে দিবে।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।