জার্মানিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবার গোপন ফর্মুলা



জার্মানিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবার গোপন ফর্মুলা একটাই, আর সেটা হইতাছে আপনাকে ড্রাইভিং জানতে হবে, জানতে হবে মানে জানতে হবে, অন্য কিছু না। এখন প্রশ্ন হইতাছে আমি কম টাকায় ড্রাইভিং জানবো কিভাবে? এক্ষেত্রে আমার সাজেশন থাকবে আপনি বাংলাদেশে থেকে কম করে হলেও ১০০ ঘন্টা গাড়ি চালানোর প্র্যাক্টিস করে আসেন। এই ১০০ ঘন্টা জার্মানিতে প্র্যাক্টিস করলে আপনাকে ৫০০০ ইউরো খরচ করতে হবে, আর বাংলাদেশ থেকে করলে সর্বোচ ৩০০ ইউরো লাগবে।

এখন প্রশ্ন হইতাছে ভাই অনেকেই তো ভালো ড্রাইভিং জানে, কিন্তু তারপরও কেন বার বার ফেল করে। আমি আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সময় ফেল করার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি এবং তার সমাধানটা কি হতে পারে সেটা নিয়েও বিশ্লেষণ করেছি। আজকের পোস্টে আমি সেই বিষয়গুলি নিয়া কথা বলবো।

তবে তার আগে চলেন আমরা একটু বাংলাদেশের রাস্তাঘাট দিয়া ঘুরে আসি। আপনারা যারা বাংলাদেশে আছেন এবং নিয়মিত মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালান, তারা কি কখনো রাস্তার দিকে ভালো করে খেয়াল করেছেন? আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, প্রায় সকল রাস্তায় ডট ডট লাইন দেওয়া, আবার কখনো সোজা লম্বা লাইন, মাঝে মধ্যে রাস্তার মাঝে একটা বিত্তের মাঝখানে লিখা ৪০/৫০/৬০ । আমি সিউর আপনারা কেউ বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখেন নাই, এমনকি যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বড় বড় চালান কাটেন তারাও জানেন না এইগুলার মানে কি। আমি ১৩ বছর ঢাকাতে মোটরসাইকেল চালাইছি, আমি নিজেও কখনো এই জিনিসগুলো খেয়াল করি নাই। আর আজকে আমি সব কিছু জানি ও মেনে গাড়ি চালাই। এইখানটাতে বাংলাদেশের আর জার্মানির ড্রাইভিং এর মূল পার্থক্য। মানে আপনাকে ট্রাফিক নিয়ম জানতে হবে। আর আপনি কতটা ট্রাফিক নিয়ম জানেন, সেটাই টেস্ট করা হয় আপনার থিওরি এক্সামের মাধ্যমে। আমার জানতামতে জার্মানিতে মাত্র ১৫-২০% লোক প্রথম চান্সএ পাস করে, কারণ তারা নিয়ম গুলো ভালো করে বুজে না।

থিওরি টেস্ট এর জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন:

১) একটা সফটওয়্যার কিনুন

২) সফটওয়্যারটিতে ১০৫০টি প্রশ্ন থাকে, প্রতিটা প্রশ্ন ভালো করে বুঝেন, সঠিক উত্তরগুলো কেন সঠিক এবং ভুল উত্তরগুলো কেন ভুল, দুটোই জানুন। কারণ টেস্টে প্রশ্নগুলো অনেক সময় উল্টা করে জিজ্ঞেস করা হয়। আপনি হয়তো শিখেছেন, এইখানে সঠিক উত্তর কোনটি, কিন্তু টেস্টে সেম প্রশ্ন সেম উত্তর লিস্ট, কিন্তু জিজ্ঞেস করা হয়েছে, কোন উত্তরটা সঠিক না। যদি খেয়াল না করেন তাহলে নির্ঘাত ধরা খাইবেন।

৩) আপনি যখন ট্রাফিক সাইন শিখবেন দেখবেন হাজারটা সাইন, কিন্তু মজার বিষয় হইতাছে হাতে গুনা ৫-৭ টি সাইন ৯৫% কেসে পাবেন আর সেগুলা হইতাছে:

৩-১) নীল রঙের লম্বা বোর্ডে লিখা einbhanstraße

৩-২) লাল ত্রিভুজ মাথা নিচের দিকে

৩-৩) লাল ত্রিভুজ মাথা উপরের দিকে

৩-৪) চতুর্ভুজ এর মাঝখানে হলুদ

৩-৫) ৬ কোন, মাঝে STOP লিখা

৩-৬) লাল বিত্তের মাঝে সাদা মাইনাস

এবং একটা খুবই জরুরি রুল "রাইট বিফোর লেফট"

বিষয়গুলা ভালো করে বুজে নেন, আপনি থিওরি টেস্টে ৭০% মার্ক এইখানে তুলতে পারবেন আর প্রেক্টিকেল পরীক্ষায় ৪০% ফেল করার রিস্ক কমে যাবে।

আমার মতে থিওরি টেস্টএর প্রস্তুতি নিতে সর্বোচ্চ ২ সপ্তাহ লাগে। আমার সাজেশন মতে যদি আপনারা প্রস্তুতি নেন, আমি গ্যারেন্টি দিয়ে বলতে পারি আপনি থিওরি পাস করতে একবারের বেশি দুইবার নিবেন না।

প্রেক্টিকেল টেস্ট এর জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন:

১) প্রেক্টিকেল টেস্টে ৪০% লোক ফেল করে ৩০ জোনে, আপনি থিওরি টেস্ট এর ৩ নম্বর রুল গুলা ভালো করে জানেন ও মেনে চলেন, আসা করছি এইখানে আপনারা আর কোনো সমস্যা হবে না।

২) প্রেক্টিকেল টেস্টে ৫০% লোক ফেল করে পার্কিং করতে গিয়ে, তাই আপনি যখন বাংলাদেশে গাড়ি চালানো শিখবেন, তখন সংসদ ভবনের রাস্তাতে জোরে গাড়ি চালানো না শিখে নিচের বিষয়গুলো ভালো করে প্র্যাক্টিস করবেন:

২-১) রিভার্স পার্কিং

২-২) প্যারালাল পার্কিং

২-৩) ফ্রন্ট পার্কিং

২-৪) চিপা গলি থেকে বের হওয়া ও চিপা গলিতে ঢুকা

২-৫) সামনের দিকে ঢালুতে থামানো গাড়িকে পিছনে নিয়ে যাওয়া

২-৬) পেছনের দিকে ঢালুতে থামানো গাড়িকে সামনে নিয়ে যাওয়া

৩) প্রেক্টিকেল টেস্টে ৫% লোক ফেল করে অটোভানে। অটোভানে গাড়ি চালানো সবচে সোজা। শুধু ভালো করে প্র্যাক্টিস করবেন কিভাবে মার্জ করা যায়, যেটা আপনাকে জার্মানিতে প্র্যাক্টিস করতে হবে।

৪) আর ৫% লোক ফেল করে ছোট ছোট ভুল থেকে, প্রেক্টিকেল টেস্টে ৩টি ছোট ভুল মানে ১টি বড় ভুল, মানে ফেল। যেমন গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হওয়া, গাড়ির ইনজীন জাকুনি দেওয়া, গাড়ির ইনজীন থেকে বিকট শব্দ বের হওয়া, ঠিক মতো ডানে বামে না তাকানো ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনি কি বাংলাদেশ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে সেটা কনভার্ট করে নিবেন কিনা?

আপনি যাকেই জিজ্ঞেস করবেন, এক কথায় সবাই বলবে এটা ভালো, তাহলে আপনি কম খরচ এ ড্রাইভিং লাইসেন্সটা করতে পারবেন। তবে এইখানে আমার উত্তরটা হবে একটু ভিন্ন।

আপনার যদি বাংলাদেশে নিয়মিত ড্রাইভিং করার এক্সপিরিয়েন্স থাকে তাহলে আপনি কনভার্ট করতে পারেন।

আর আপনার যদি কোনো ড্রাইভিং এক্সপিরিয়েন্স না থাকে, তাহলে বিষয়টা আপনার কাছে বুমেরাং হইয়া ফেরত আসতে পারে। কিন্তু কেন? বিষয়টা হইতাছে আপনি যদি ফ্রেস ড্রাইভার হন তখন এক্সামিনার আপনাকে অনেক সহজ জায়গা দিয়ে ড্রাইভ করতে নিয়ে যাবে, আপনাকে এমন জায়গায় পার্ক করতে বলবে যেখানে মাত্র একটি গাড়ি দাঁড়াইয়া আছে, ট্রাফিক সিচুউশন খুব দ্রুত চেঞ্জ হয় না। কিন্তু আপনি যদি পুরাতন ড্রাইভার হন, আপনাকে পার্ক করতে বলবে ২ গাড়ির মাঝে, বা তার থেকেও কঠিন কোন লোকেশনে, আপনাকে নিয়ে যাবে খুবই কণযাসট্যাড্ জায়গা দিয়ে, কারণ আপনার কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে এবং সে আপনার কাছ থেকে অ্যাডভান্স কিছু আসা করে। তার মানে আপনি যদি ফ্রেশ হন তাহলে আপনাকে একবার ফ্রাই করে খাবে, আর যদি পুরাতন হন তাহলে বার বার ফ্রাই করে খাবে। এখন ডিসিশন আপনার, আপনি ভালো বলতে পারবেন কোনটা করলে আপনার জন্য ভালো হয়। 😁

আসা করছি আমার এই পোস্টি আপনাদের অনেকের উপকারে আসবে।


এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ থেকে করতে পারেন।



লেখক Pijush Sarkar

Senior Consultant

EXXETA AG, Germany

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।