জার্মানিতে বাংলাদেশীদের হিন্দি গান বিতরনের হতাশা !!!

আমি সত্যিই হতাশ অনেক বাংলাদেশীদের এখানকার কাজ দেখে। আমি কোন বাংলাদেশে বসে থাকা অশিক্ষিত মূর্খ কারো কথা বলছি না। জার্মানিতে থাকা শিক্ষিত অনেক বাংলাদেশীদের কাজ দেখে বলছি। আমরা যারা জার্মানিতে অনেক দিন ধরে থাকি, তাদের প্রায় সবারই জব, ইউনি বা শেয়ার করা বাসার কারনে প্রায় সবারই জার্মান বা অন্য বিদেশীদের সাথে পরিচিতি থাকে। বাংলাদেশিরা জার্মানিতে যেটাতে বেস্ট তা হল আথিতেয়তায়। প্রায় বাংলাদেশিরাই অন্য দেশিদেরকে রান্না করে খাওয়ানোর দাওয়াত দেয়। এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগে প্রায় বিদেশিরাই আমাদের দেশকে জানতে অনেক ধরনের প্রশ্ন করে। আর ইয়াং হলে আমাদের দেশের গান নিয়ে প্রশ্ন করবেই। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য। যখনই এখানকার বাংলাদেশিরা বিদেশীদেরকে দাওয়াত দিয়ে কোন কিছু করে সেখানে হিন্দি গান ছেড়ে দেয়। তার সাথে যদি কোন বিদেশী গান চায়, তখন তাকে বিভিন্ন হিন্দি গান দেয়। এই ক্ষেত্রে যুক্তি হলো, আমাদের বাংলাদেশী গান থেকে হিন্দি গান শুনতে ভালো লাগে, তাই দেওয়া। আমার মাথায় আসে না এই যুক্তি কিভাবে মাথায় আসে। আমার ব্যাক্তিগত মোট ছয় জন জার্মান বন্ধু বান্ধুবী বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বেড়াতে গিয়েছিলো। সবাই বাংলাদেশের গানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো। বিশেষ করে সুমনের নুপুর, অনেক আগের মাক্সুদের মেলায় যাইরে, বালামের ভালবাসবো বাসবো রে গান তাদের এতই পছন্দের ছিলো যে, আমাকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিতে হয়েছিলো। তার সাথে রবীন্দ্র সঙ্গীতের খুব প্রশংসা শুনে ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতায় জানা, জার্মান বা বিদেশীরা কেউ আমাদের বাংলাদেশে পশ্চিমা স্টাইলের Disco বা Pop ধরনের গান শুনতে চায় না। তারা চায় আমাদের দেশের ব্যাতিক্রমী গান শুনতে। যেমন তাদের কেউ জীবনে তবলা, একতারা, হারমোনিয়াম দেখেই নি। তাই এসবের গান কেমন তা নিয়ে তাদের মাঝে এক বিশাল আগ্রহ আছে। তাছাড়াও আমাদের যা আছে তাহলো লোকসঙ্গীত, লালনগীতি। আমি নিজেও এই গান ধরনের গান না শুনলেও, আমার জার্মান বন্ধু বান্ধুবিদের কাছে এই ধরনের গান খুব প্রিয়। আমরা যতই মডার্ন গান শুনি না কেনও, এই গানগুলোই আসলে পিউর বাংলাদেশী সংস্কৃতির প্রতিনিধি করে। তাছাড়াও সত্য বলতে, বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত জার্মানির ব্যান্ড দলের চাইতে কয়েকগুন বেশি ভালো (আমি সিরিয়াস)। আর ব্যতিক্রমী হিসেবে আমরা আমাদের রবীন্দ্র, নজরুল, বাংলা পপ বা ফোক সঙ্গীত সহ হাজারো গান তুলে ধরতে পারি। কথা প্রসঙ্গে ধরলাম, আমাদের গান তার ভালো লাগলো না, তাতেও আমারা কেউ হিন্দি গান দিবো না। আমরা তাকে অন্য বাংলা গান দিবো অথবা ব্যাখ্যা করবো কেনও এই গান স্পেশিয়াল। তারপরেও তার ভালো না লাগলেও আমাদের করার কিছু নেই। আমাদের বাংলা গানগুলো আমাদের গর্ব। আমি জার্মানিতে কোন দেশিকেই দেখিনা তার নিজের দেশের গান রেখে অন্য দেশের অন্য ভাষার গান বন্ধুদেরকে দিতে। এমনকি ল্যাতিন আমেরিকার প্রায় সব দেশের ভাষা এক হলেও এক দেশের মানুষ অন্য দেশের গান দেয় না। আমি নিজেও খুব বড় দেশপ্রেমিক না, আমিও ব্যাক্তিগতভাবে বিভিন্ন বিদেশী গান শুনি। কিন্তু জার্মানদেরকে আমরা কখনই বাংলা ছাড়া অন্য কোন গান দিতে পারিনা। বাংলাদেশের সরকারের কাজ না আমাদেরকে বিতরনের জন্য বাংলা গানের তালিকা দেওয়া অথবা বাংলাদেশী এম্ব্যাসেডর এসে আমাদেরকে বাংলা গানের সিডি দিয়ে যাবে না। এখানে বিদেশীর কাছে আমরাই আমাদের দেশের দুত। আমার দেখা অনেক ভারতীয় আমাদের মতো এতো হিন্দি গানের ভক্ত না। যে ভারতের তামিল থেকে এসেছে সে হিন্দির বদলে তামিল গান শুনে অথবা যে পাঞ্জাব থেকে এসেছে সে পাঞ্জাবি গান বিতরন করে। আমরা বাংলাদেশীরা কেনও এভাবে হিন্দি গান বিভিন্ন বিদেশিকেদেই তা আমি বুঝতে পারছি না। কেউ আবার এর সাথে ভারত বিরোধিতা বা বাংলাদেশের রাজনীতি বা সরকারের ভূমিকা এসব মিলিয়ে ফেলবেন না। আমার মতে এটা একমাত্র আমাদের সাধারন কমন্সেন্সের ব্যাপার। কমেন্ট করার সময় কোন রাজনৈতিক কমেন্ট না লেখার দিকে খেয়াল রাখবেন।

লিখেছেন Nur Mohammad


এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপের পোস্ট থেকে আপনি তা করতে পারেন।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।