জার্মানিতে Job seeking visa এর খুঁটিনাটি বিস্তারিত!!!




জার্মানিতে যতো ভিসার ক্যাটাগরি আছে তার মধ্যে সবচাইতে কম ঝামেলা হল Job seeking visa। প্রতি বছর ভারত, পাকিস্তানি এমন কি আফগানিস্তান থেকেও শত শত দক্ষ মানুষ Job seeking visa ভিসা নিয়ে তেমন কোন কিছু না জেনে জার্মানিতে আসে, অথচ আমরা না জানার কারনে এই ভিসার জন্য তেমন কোন আবেদন করি না। এই ভিসার কিছু উল্ল্যেখযোগ্য দিক হলো এই ভিসার আবেদন করার জন্য যেমন কোন IELTS লাগে না, তেমনি কোন ব্লকড একাউন্টের ঝামেলাও নেই। জার্মানিতে বিভিন্ন কোম্পানিতে দক্ষ লোকের অভাব থাকাতে এই Job seeking visa সহজ করে দেয়া হয়েছে।


এই ভিসার কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো

ক) এই ভিসা ৬ মাসের জন্য হয়।

খ) আবেদনের জন্য IELTS লাগে না

গ) ফ্যামিলি নিয়ে এক সাথে আবেদন করা যাবে না। একা একজন আবেদন করতে পারবে।

ঘ) চাকরি না ব্যবস্থা করতে পারলে এই ভিসা কোন ভাবেই বাড়ানো যাবে না।

ঙ) ৬ মাসের মধ্যে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারলে সরাসরি Blue কার্ড বা পি আরের জন্য আবেদন করা যাবে। তখন আপনি আপনার ফ্যামিলি বা সন্তানকেও নিয়ে আসতে পারবেন।

চ) যে ক্যাটাগরির চাকরি খুঁজার জন্য আসবেন, সে ক্যাটাগরির চাকরির অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ৫ বছর থাকতে হবে।

ছ) চাকরি ব্যবস্থা না করতে পারলে এই ভিসা কোন ভাবেই অন্য ভিসাতে পরিবর্তন করা যাবে না, যেমন কেউ চাইলেই কোন ইউনিতে ভর্তি হয়ে ভিসা বাড়াতে পারবেন না।

জ) এই ভিসা নিয়ে আসলে, এটা দিয়ে আপনি পার্ট টাইম জব করতে পারবেন না। আপনার কাজ একমাত্র হলো জার্মানিতে ৬ মাসের মধ্যে জব খুঁজে বের করা।



এই ভিসার আবেদনের জন্য যা লাগে তার একটা সম্পূর্ণ লিস্ট


১। পাসপোর্ট (পাসপোর্টের মেয়াদ আপনি যখন জার্মানি থেকে ফেরত আসবেন সে সময় থেকে ১২ মাস বাকি থাকতে হবে)

২। এক সেট পাসপোর্টের ফটোকপি।

৩। ৩টা পাসপোর্ট সাইজ ফটো।

৪। বিস্তারিত কভার লেটার (যেখানে আবেদনকারী বিস্তারিত লেখবে - কেনো সে জার্মানি যেতে চায়, কোন পজিশনে কেনো চাকরির আবেদন করবে, তার ঐ পজিশনে কি রকমের দক্ষতা, জার্মানিতে চাকরি কিভাবে খুঁজবে, জার্মানিতে সে ৬ মাস থাকাকালিন কিভাবে চাকরি খুঁজার কাজে লাগাবার পরিকল্পনা করতেছে, সে কোন মনে করছে সে চাকরি খুঁজে বের করতে পারবে এবং চাকরি না পেলে তার পরিকল্পনা কি ইত্যাদি)

৫। একাডেমিক সকল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট। কমপক্ষে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স পাস হতে হবে। (সন্মান কোর্স হলে তাকে মাস্টার্স পাস হতেই হবে)

৬। কমপক্ষে গত ৫ বছরের চাকরির সকল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট।

৭।৬ মাসের জন্য ৬ লাখ টাকা নিজের একাউন্টে দেখাবেন। এটাকে কোন ব্লকড করতে হবে না। তবে শেষ তিন মাস ব্যাক্তিগত একাউন্টে ৬ লাখ টাকা ছিল এমন স্টেট্মেন্ট দেখালেই হবে। (তবে অনেক সময়ে আপনার একাউন্টের লেনদেন পছন্দ না হলে আপনাকে ব্লকড করতে বলতে পারে। তখন আলাদা একটা চিঠি লিখে দিবে, যা দিয়ে আপনি ৬ মাসের জন্য ব্লকড করবেন। তবে প্রায় সময়ে এটা বলে না।)

৮। জার্মানিতে থাকার কোন হোটেলের বুকিং বা কোথাও থাকার ব্যবস্থা করার প্রমান। (এটা কয়েকদিনের জন্য যে কোন জায়গা বুকিং দিলেই হবে। বলবেন সেখানে যেয়ে থাকার ব্যবস্থা করবেন)

৯। পার্সোনাল সিভি (আগের সকল পড়াশুনা এবং চাকরির অভিজ্ঞতার সাল সহ উল্ল্যেখ থাকতে হবে)

১০। বাংলাদেশ থেকে জার্মান ভাষা কোর্স এ১ বা এ২ করলে ভালো হয়। তাতে ভিসা অফিসার খুবই সহজে কনভিন্স হয়ে যায়। তবে ভাষা কোর্স বাধ্যতামুলক না। থাকলে ভালো না হলে, আবার না থাকলেও আবেদন করতে অসুবিধা নেই।

১১। বাংলাদেশ থেকে একটা সিম্পল টেম্পোরারি মেডিক্যাল ইন্সুরেন্স করতে হবে। ভিসার আবেদন করতে গেলে ভিসা অফিসারই সাধারণত বলে দেয়।

১২। ভিসার জন্য জার্মান এম্ব্যাসির আবেদন ফর্ম। এম্ব্যাসির ভিসা আবেদন ফর্ম এর লিঙ্ক https://bit.ly/2EuY9hb

ভিসা ফিস প্রায় ৬০ ইউরো।


আমি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছি, জার্মান এমব্যাসি ঢাকা এই Job seeking visa আবেদনের কোন তথ্য রাখেনি। অথচ জার্মান এম্ব্যাসি ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান সহ সকল দেশের জার্মান এম্ব্যাসি এই ভিসার বিস্তারিত তথ্য তাদের ওয়েব সাইটে দিয়ে রেখেছে। এই ভিসার আবেদনের নিয়ম সারা বিশ্বের সব দেশের আবেদনকারীদের জন্য ৯৮ ভাগ সমান। আমি জানি না, জার্মান এম্ব্যাসি কি মনে করে আমাদের দেশে কোন দক্ষ মানুষ নেই নাকি।


ভারতের জার্মান এম্ব্যাসির সাইট থেকে Job seeking visa এর আবেদনের তথ্যের লিঙ্ক https://bit.ly/2PsfxcZ



আমার লেখার সূত্র https://bit.ly/2rJFxaQ


লেখক Nur Mohammad

এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।