জার্মানি থেকে US মিলিটারির 9500 সৈন্য প্রত্যাহার


জার্মানি থেকে US মিলিটারির 9500 সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে জার্মানির পুরো মিডিয়া এখন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এর বিরুদ্ধে গরম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই জার্মানিতে আমেরিকার সৈন্য বিভিন্ন কারণে সবসময়ে ছিলো। এখন জার্মানিতে NATO জোটের সহযোগিতার নামে আমেরিকার প্রায় 40 হাজার সৈন্য মোতায়েন করা আছে। এখানকার ঘাঁটি থেকে USA পুরো আফ্রিকা মহাদেশের কমান্ড নিয়ন্ত্রন করে, আবার Middle East এর মূল ড্রোন নজরদারি এখান থেকেই করে। আমেরিকা গতসপ্তাহে বার্লিনকে অফিশিয়ালি জানিয়ে দিয়েছে, তারা 9500 সৈন্য জার্মানি থেকে প্রত্যাহার করবে, যা নিয়ে জার্মান মিডিয়াতে এখন তুমুল আলোচনা সমালোচনা চলছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump আসার পরে বিদেশ নীতিতে যে কয়েকটা দেশের সাথে খারাপ সম্পর্ক হয়েছে, তার মধ্যে জার্মানি প্রথম সারিতে আছে। জার্মানির চ্যান্সেলর Angela Markel প্রেসিডেন্ট Donald Trump এর প্রকাশ্য সমালোচক। গতবছর হার্ভার্ড ইউনিয়ের Graduation ceremony তেও চ্যান্সেলর মার্কেল US য়ের বিভিন্ন নীতির এমন সমালোচনা করেছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন নাম করা মিডিয়াতে ফ্রন্ট পেইজে এসেছে। জার্মানি আমেরিকার সৈন্য থেকে অতীতে যেভাবে লাভবান হয়েছে ১। জার্মানি তাদের মিলিটারির জন্য আসলে অন্য দেশের মতো, তেমন কোনো খরচ করে না। নামকা ওয়াস্তে সৈন্যদের বেতন বা Equipments আপডেটের জন্য যে খরচ না করলেই না, তা খরচ করে। এতে তাদের একটা বিশাল টাকা প্রতি বছর বেঁচে যেতো। মিলিটারির কথা আসলেই NATO র দোহাই দিয়ে নিজেরা তেমন খরচ করতো না। আর NATO তে আমেরিকা একা যত টাকা খরচ করে, ইউরোপের 27 টা মেম্বার দেশ মিলিয়েও তার অর্ধেক খরচ করতো না। এই ফাঁকে জার্মানরা তাদের অর্থনীতি ভালো ভাবে গুছিয়ে নিয়েছে। এখন জার্মানরা দোটানায় আছে তাদের মিলিটারির জন্য খরচ বাড়ানো দরকার কিনা, বাড়ালেও সেটা কি কাজে দিবে তা ইত্যাদি। ২। সাধারণত জার্মানির যেখানে US Military বেইস আছে সে শহরগুলো খুবই ছোট। সেখানকার পুরো শহরের অর্থনীতি মূলত সেখানকার Well Funded মিলিটারির মানুষদের খরচের উপরে নির্ভর করে। তাই তারা সৈন্য প্রত্যাহারের বিপক্ষে। ৩। US মিলিটারির মানুষদের বউ বা ছেলে মেয়েরা ফ্রি সময়ে আশেপাশের স্কুল গুলোতে ইংরেজি ভাষা শেখায়। এমন দক্ষ ইংরেজি Native speaker তারা মিস করবে। ৪। US মিলিটারি এখানে থাকা German মিলিটারির তুলনায় অনেক Advance এবং আধুনিক। বিনে পয়সায় তাদের থেকে এমন কাছে থেকে দেখার সুযোগ মিস করতে চায় না। বিশেষ করে ইউএস এর ড্রোন প্রোগ্রাম, Spy টেকনোলজি, US Navy এর তুলনায় জার্মানরা অনেক পিছিয়ে।

এখন জার্মান মিডিয়া যেভাবে গরম তাতে জার্মানির মানুষ দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এক ভাগ মনে করে, US মিলিটারি জার্মানির জন্য ভালোর চাইতে বেশি খারাপ, এতে সারা দুনিয়াতে জার্মানদের নাম যুদ্ধবাজ হিসেবে খারাপ হচ্ছে। তাদের মতে, USA জার্মানির বিভিন্ন ঘাঁটি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে আক্রমণ করছে আর জার্মানির নাম খারাপ হচ্ছে। এমন কি তারা, USA যেভাবে জার্মানিতে পারমাণবিক বোমা, আর মিসাইল মোতায়েন করে রেখেছে, তার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে না। আবার অন্য পক্ষেরও যুক্তির শেষ নেই। আপনারা কেউ জার্মান ভালো জানলে, জার্মান ভাষার বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্লকড বা মিডিয়াতেও চোখ রাখতে পারতেন।

আমার তথ্যসূত্র: ১। https://www.spiegel.de/politik/ausland/usa-donald-trump-plant-massiven-truppenabzug-aus-deutschland-a-50b6a2ce-76f9-4a40-a24b-0c99398e46ed?fbclid=IwAR26VUVL9WDgPZtLjjbVMdzYeoa1IjZ6N5Vdf_QsQVnwsksyLDtujrfiVZY

২। https://www.reuters.com/article/us-usa-germany-military-beyer-idUSKBN23F0MA?fbclid=IwAR1KVQr0GZ71s0pcCsMGGK3tfU-tvrugHPw6YAY_3qTQYkZHwrfQ33t1RpI লেখক Nur Mohammad এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে দিতে পারেন।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।