জার্মান পাসপোর্ট বা PR পাওয়ার পরে কিছু Traditional ভুল ধারণা


বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় সময় একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করতে দেখা যায়, জার্মান পাসপোর্ট হয়ে গেছে কিনা অথবা হতে কত দেরি? একটা ধারণা অনেকের মধ্যে কাজ করে, জার্মান পাসপোর্ট হয়ে গেলেই নিজের পরিবার বা নিজেকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে। এবার কেউ জার্মান পাসপোর্ট পেয়ে গেলেই বাংলাদেশের সবাই মনে করা শুরু করে সে এখন কোটিপতি হয়ে গেছে। আসলে বাস্তবতা কি তা তুলে ধরলাম। (অবশ্যই নিজের ব্যক্তিগত উপলদ্ধি থেকে, যা ভুল হতে পারে)


১। জার্মান পাসপোর্ট হলেও জার্মানিতে বৈধভাবে সুন্দরভাবে ইনকাম করে, বাংলাদেশে কখনো গুলশানে গাড়ি বাড়ি, অথবা কোটি টাকা দিয়ে তৈরি গাড়ি বাড়ির মালিক হওয়া যাবে না। এমন কি সাধারন, ফ্ল্যাট বাড়ির মালিক হতেই কষ্ট হয়ে যাবে (তাও কিস্তিতে পরিশোধ করলে)। উঠতে বসতেই এই উদাহরণ শুনবেন, বাংলাদেশে পড়াশুনা না জেনে, বিভিন্ন মূর্খরা আমেরিকা বা কানাডাতে যেয়ে দেশে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে গাড়ি বাড়ি করেছে। তাই হয়ত ভাবতে পারেন, আপনি পড়াশুনা জেনে জার্মানিতে স্থায়ী হলেই, এত আয় করবেন যে টাকা গোনার মেশিন লাগবে, বাস্তবে সেটা ভুলে যাবেন। জার্মানিতে ব্ল্যাকে আয় করলে এটা সম্ভব কিনা জানি না, তবে বৈধভাবে আয়ে এটা অলমোস্ট impossible. আমি নিজেও জানি না, জার্মানিতে কোন সেক্টরে, কিভাবে আয় করলে আপনি কোটিপতি হয়ে, দেশে এমন টাকা খরচ করতে পারবেন। এটা অনেক জার্মানরাও স্বপ্ন দেখে না।

২। আপনি জার্মান পাসপোর্ট বা PR যাই পান না কেনো, কখনোই এখানে আপনার বাবা-মা, ভাই-বোন বা তাদের পরিবারকে Settle করতে পারবেন না। আপনার বাবা-মা বা পরিবারের অন্যরা সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য আপনার কাছে কাছে ভিজিট করতে পারবে। এই যা। আমেরিকা, কানাডার উদাহরণ ভুলে যাবেন।

৩। জার্মান পাসপোর্টধারীদের জন্য পরিবার বা আত্মীয় স্বজনসহ কারো Sponsor হতে গেলে আলাদা কোনো সুবিধা নেই। একজন বিদেশিকে স্পন্সর হতে হলে জার্মান Beurgeramt এ যেয়ে যে পরিমান আয় দেখাতে হবে, ঠিক একই আয় এবং ট্যাক্সের কাগজপত্র জার্মান পাসপোর্টধারীকেও দেখাতে হবে।

৪। পরিবার বা আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ জার্মান পাসপোর্ট পেলে তা নিজের ব্যক্তিগত জার্মান ক্যারিয়ার বা ডকুমেন্টের জন্য কোনো প্রভাব ফেলে না।

৫। জার্মান পাসপোর্ট পেয়ে ব্যবসা করতে গেলে কোনো এক্সট্রা সুবিধা বা ট্যাক্স রেওয়াত বা ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো সুবিধা পাবেন না। যখন যেখানে যা পে করতে হবে, তা জার্মান পাসপোর্ট এবং বিদেশি পাসপোর্টের জন্য সেইম। আবার ট্যাক্স ফাঁকির আইন কানুনসহ সব শাস্তিও একই।

৬। জার্মান পাসপোর্ট পেলে ইউনিয়ের এডমিশন পাবার ক্ষেত্রে অথবা ইউনিতে পড়াশুনা করা বা পরীক্ষায় পাশ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আপনার যোগ্যতা সেখানে কথা বলে, পাসপোর্ট না।

৭। জার্মান পাসপোর্ট পাওয়া মানেই উনি পরিবারের কাছে প্রতিমাসে দেড় দুই লাখ টাকা নিয়মিত পাঠাতে পারবেন, এটা ভুল ধারণা। এমন কি সত্যি হচ্ছে, ওনার যদি জার্মানিতে পরিবার থাকে, তাহলে প্রতি মাসে Fixed ৫০০ ইউরো করে দেশে পাঠানোটাও কঠিন হয়ে যায়। তবে যারা ব্ল্যাকে রেস্টুরেন্টে বা বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে কাজ করে আয় করে তাদের উদাহরণ ভুলে যাবেন।

৮। জার্মান পাসপোর্ট পেলে জার্মানিতে কোনো আয় বাড়ে না। আবার জবের ক্ষেত্রেও আলাদা কোনো বেতনের কিছু নেই। তাই যেভাবে সবাই মনে করে, জার্মান পাসপোর্ট পাওয়া মানেই উনি কোটিপতি বা atleast solven অথবা উনি চাইলেই পরের মাসেই পরিবারের সব মেম্বারদেরকে জার্মানি নিয়ে আসতে পারবে, এটা ভুল ধারণা।

আমার ব্যক্তিগত উপলদ্ধি, জার্মানির মতো well Social & welfare সিস্টেমের দেশে আপনি বৈধভাবে জব করে আয় করলে, এখানে আরামে চলতে পারবেন। দেশে মাসে অল্প স্বল্প বা মিডিয়াম পরিমান টাকা পাঠিয়ে যেতে পারবেন। এতো টুকুই। জার্মান সরকার এখানে সবাইকে খাওয়াই পরাই বাঁচিয়ে রাখে, কিন্তু সহজে কাউকে বৈধভাবে কোটিপতি হতে দেয় না।

লেখার সূত্র লেখকের উপলদ্ধি।

লেখক Nur Mohammad এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে দিতে পারেন।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।