প্রসঙ্গঃ রিকোমেন্ডেশন লেটার

লিখেছেনঃ Kafil Mahmud, ইউনিভার্সিটি অব পোটসডাম, জার্মানি


বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য রিকোমেন্ডেশন লেটার (LoR) বা রেফারেন্স লেটার খুবই গুরুত্বপূর্ন। বিশেষকরে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে রিকোমেন্ডেশন লেটার।


রিকোমেন্ডেশন লেটার কী? আপনি যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাডির জন্য আবেদন করবেন, তখন, আপনাকে একটা/দুইটা রিকোমেন্ডেশন লেটার (LoR) নিতে হবে আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে পড়েছেন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর থেকে, যিনি আপনাকে ভালভাবে জানেন। তিনি এডমিশন কমিটিকে রিকোয়েস্ট করে লেটারে লিখে দিবেন যে, আপনি ভালো স্টুডেন্ট, আপনি ভবিষ্যতে অনেক ভালো করবেন, তারা যেনো আপনাকে এডমিশন/স্কলারশিপ দেয়। আপনার যদি জবের অভিজ্ঞতা থাকে তখন লেটেস্ট এমপ্লয়ার থেকেও নিতে পারেন। কিছু প্রোগ্রামে সাবজেক্ট স্পেসিফিক রিকোমেন্ডেশন লেটার লাগে। প্রফেসর লিখে দিবেন আপনি পারটিকুলারলি এই সাব্জেক্টে কেনো ভাল এবং কেনো এই সাব্জেক্ট পড়ার জন্য রাইট ক্যান্ডিডেট।


কে রিকোমেন্ড করতে পারবে! আগেও বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি যে ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করেছেন সে ডিপার্ট্মেন্টের প্রফেসর( অন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে নিলে হবেনা) / লেটেস্ট এমপ্লয়ার থেকে নিবেন। রিকোয়ারারমেন্টস দেখে নিবেন ভালমতো কার থেকে চাচ্ছে। প্রফেসর থেকে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সিনিয়র প্রফেসর থেকে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, যার নিজের রিসার্চ আরটিকেল আছে, গুগলে সার্চ করলে যেনো তার কয়েকটা আর্টিকেল পাওয়া যায়। বিশেষকরে ডিপার্ট্মেন্টের হেডের কাছ থেকে নিতে পারলো খুবই ভাল হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যদি হয় জুনিয়র থেকে নিলেও সমস্যা হবেনা। একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে, যার থেকে রেফারেন্স নিবেন তার যদনো ওয়েবমেইল থাকে এবং এই মেইল যেনো ব্যবহার করা হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কলেজের নিজের ডিপারটমেন্টের স্যার/হেড স্যার থেকে নিবেন। এক্ষত্রে কলেজ/ডিপারট্মেন্টের প্যাড ব্যবহার করলে হবে।


ওয়েবমেইল কী! প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা মেইল সার্ভিস আছে, যেটা কেবল এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদেরকে অফিসিয়াল কাজের জন্য দেওয়া হয়। যেমনঃ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকদের আলাদা-আলাদা মেইল আছে। ছাত্রদের জন্য, উদাহরণ স্বরুপঃ kafilmd@student.sust.edu এবং শিক্ষকদের জন্য xxxx@sust.edu মেইল আইডি দেওয়া হয়ে থাকে। আমি এখন ইউভার্সিটি অব পোস্টডামে মাস্টার্স করছি, তারাও আমাকে একটা মেইল আইডি দিয়েছে সেটা হচ্ছে muddin@uni-potsdam.de , শিক্ষকরাও এমন মেইল আইডি ব্যবহার করে থাকেন। এটাকে ওয়েবমেইল বলা হয়। আমার আরেকটা ইমেইল আছে, kafilpss93@gmail.com এই আইডি ক্রিয়েট করতে আমার দুইমিনিটও লাগেনাই। কিন্তু muddin@uni-potsdam.de আইডি পেতে আমাকে এই ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া লাগছে। রিকোমেন্ডেশন নেওয়ার সময় খেয়াল করবেন ওয়েবমেইল ব্যবহার করা হয়েছে কি না।


কেনো লাগে! ব্যাচেলরে আবেদন করার জন্য সাধারণত লাগেনা। মাস্টার্সে কিছুকিছু প্রোগ্রামের জন্য লাগে এবং পিএইচডির জন্য এটা বাধ্যতামূলক।


লেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে পাঠাবেনঃ লেখা অবশ্যই ডিপার্ট্মেন্টের প্যাডে হতে হবে। জার্মানির ক্ষেত্রে যদি ইউনি-এসিটের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, তখন, লেটার স্ক্যান করে আপলোড দিলেই হবে। কিছু ভার্সিটিতে সীল্ড এনভেলপে করে দিতে হবে। এটা হচ্ছে, ডিপার্ট্মেন্টের প্যাডে লেখার ডিপার্টমেন্টের খামে করে দিতে হবে। খাম ওপেন করার জায়গায় রেফারির সীল এবং সাইন দিয়ে দিবেন, যেনো মনে হয়, ছাত্র এটা দেখে নাই। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রেফারি থেকে সরাসরি রেফারেন্সলেটার চায়। এক্ষেত্রে আপনি আবেদনের সময় আপনার রেফারির ইমেইল আইডী দিবেন, ওরাই আপনার রেফারির সাথে যোগাযোগ করবে, তখন আপনার রেফারি সরাসরি ভার্সিটিকে রেফারেন্স লেটার দিবেন।

ইউনি এসিস্ট ছাড়া যদি আপনার একাধিক রিকোমেন্ডেশন লেটার লাগে তখন একটা কমন লেটার স্যার থেকে নিয়ে কয়েকটা প্রিন্ট করে স্যারের সাইন নিয়ে নিবেন। ডিপার্টমেন্টের অফিসে বললে কয়েকটা খাম দিয়ে দিবে। এরপর সবগুলো খাম নিয়ে স্যারের কাছে যাবেন, গিয়ে খামে সাইন নিয়ে নিবেন।

আমাদের স্যাররা ব্যস্ত থাকেন বেশি, এজন্য কেউকেউ ছাত্রদেরকে লিখে নিয়ে যেতে বলেন, তারা শুধু সাইন দিয়ে দেন। স্যার নিজে থেকে লিখলে ভাল হয় বেশি। নিচে আমার রেফারেন্স লেটার দিলাম বুঝার জন্য। আমারটা স্যার নিজেই লিখে দিয়েছিলেন। কপি করবেন না আবার। হিতে বিপরিত হবে।

সবার জন্য শুভ কামনা।



Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।