প্রসঙ্গ ঃTechnical University of Munich (TUM)

লিখছেনঃ Saib Rizvi


আজকে মূলত আলোচনা করবো TUM এর আপ্ল্যাই থেকে শুরু করে ভাইভা পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পর্কে।


প্রথমেই আসি আপ্ল্যাই এর প্রসঙ্গেঃ


১.ভিপিডি এর জন্য আপ্ল্যাই ঃTUM এ সাধারণত উইন্টার সেশন এর আপ্ল্যাই শুরু হয় মার্চ থেকে এবং সামার সেশন এর আপ্ল্যাই শুরু হয় কোর্স ভেদে সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর এর মধ্যে। প্রথমেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো আপনার কোর্স ওয়েবসাইট এ যেয়ে দেখতে হবে কোনো স্পেশাল রিকোয়ার্মেন্ট আছে কিনা। এক্ষেত্রে আমি GRE,ESSAY,LETTER OF RECOMMENDATION কে বুঝিয়েছি। SOP সব কোর্স এই লাগে।তারপর আপনার কাজ হলো ইউনি এসিস্ট থেকে একটা VPD নেয়া। VPD মানে হলো আপনার গ্রেড কে জার্মান গ্রেডে রুপান্তর করার একটা ডকুমেন্ট। এটা করার জন্য আপনাকে প্রথমেই ইউনি এসিস্ট এ আইডি খুলে কোর্স নেম থেকে TUM সিলেক্ট করতে হবে। তারপর ৭৫ ইউরো পেমেন্ট করতে হবে। এর পর আপনার যাবতীয় ডকুমেন্ট যেমন ব্যাচেলর,এইচ,এস,সি এবং এস,এস,সি এর সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট, আই,এল,টি,এস সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট কপি সত্যায়িত করে কুরিয়ার করে দিতে হবে। এরপর ইউনি এসিস্ট থেকে আপনার ডকুমেন্ট রিসিভ কনফার্মেশন ও কোনো ডকুমেন্ট মিসিং হলে মেইল এর মাধ্যমে জানায় দিবে। ডকুমেন্ট রিসিভ এর ১৫ দিন এর মধ্যেই সাধারণত ভিপিডি মেইল এ পাঠায় দে এবং ১ মাস এর মধ্যে বাই পোস্ট এও পাঠায় দেয়।


২.অনলাইনে আবেদনঃ ভিপিডি পাওয়ার পর এখন আপনাকে আবেদন করতে হবে। এটা করা লাগবে TUM এর অনলাইন পোর্টাল এর মাধ্যমে। গুগল এ TUM Online Portal লিখলেই চলে আসবে। প্রথমেই আপনাকে একটি আক্যাউন্ট খুলতে হবে।মনে রাখবেন সব ইনফোর্মেশন দিতে হবে পাসপোর্ট অনুসারে এবং এই ইনফো গুলা পরে এডিট করা যায় না।সুতরাং সাবধানে ইনপুট দিতে হবে। তারপর আপনার কোর্স সিলেক্ট করবেন। Form of studies অপশনে Consecutive Masters সিলেক্ট করতে হবে।তারপর আপনার বিভিন্ন ডিটেইলস ইনপুট দেয়ার পরে ডকুমেন্ট আপ্লোড করতে হবে। সব ডকুমেন্ট আপ্লোড করার পর একটা আপ্ল্যিকেশন ফর্ম জেনারেট হবে ।ওইটা প্রিন্ট করে সাইন সহ আপ্লোড করতে হবে।সব ডকুমেন্ট আপ্লোড করা হয়ে গেলে ৫-৬ দিন পর ওরা একটা মেইল দিবে যে আপনার সব ডকুমেন্ট ঠিক আছে অর কোনো ডকুমেন্ট ঠিক না থাকলে ওইটাও জানায় দিবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আপনার পোর্টাল এ Submission of application এর নিচে একটা গ্রিন টিকমার্ক শো করবে। ব্যস আপনার আপ্ল্যাই হয়ে গেলো। এরপর এরা আপনার আপ্ল্যিকেশন আপনার ডিপার্ট্মেন্ট এ ফরোয়ার্ড করবে এবং ডিসিশান জানায় দিবে। ডিসিশান কয়দিন পর জানাবে এটার আসলে ঠিক নাই। আমার ক্ষেত্রে জানাইছিলো ৫ মাস পর। আপ্ল্যাই করসিলাম ফেব্রুয়ারিতে আর জানাইসিলো জুলাই তে। অনেকের আবার ২ মাস পরেও জানায় দিসে।সো ওয়েট করা ছাড়া কিছু করার নাই। ওদের কে মেইল দিয়েও লাভ নাই। সিলেকশান অথবা রিজেকশানঃ বাছাই এর ক্ষেত্রে ৩ টা ক্রাইটেরিয়া থাকে। স্কোরিং এর ভিত্তিতে বাছাই করা হয়। যেমন আমার কোর্সে ১০০ তে ৮০ বা তার বেশি পেলে সরাসরি সিলেকশান ,৬৯ বা তার নিচে পেলে রিজেকশান। আর ৭০ ও ৭৯ এর মধ্যে থাকলে একটা ভাইভার জন্য সিলেক্ট করা হয়।আপনাকে ডিসিশান মেইল এর মাধ্যমে বলে দেয়া হবে অথবা পোর্টাল এ ঢূকে ও চেক করতে পারবেন। যদি ভাইবার জন্য সিলেক্ট হন তাহলে আপনাকে ভাইবার ডেট ,টাইম সম্পর্কে একটা মেইল এর মাধ্যমে জানায় দিবে। আপনি একটা শর্ট রিপ্লাই দিয়ে কনফার্ম করবেন। ভাইবাঃ যেদিন ভাইবা তার আগের দিন আপনার ডিভাইস/ল্যাপ্টপ এর সব চেক করে নিবেন। সবচেয়ে ভালো হয় মোবাইল এর হটস্পট দিয়ে কানেক্ট করলে কেননা আমাদের দেশ এ ইলেক্ট্রিসিটি এর ভরসা নাই। ভাইবার সময় সাথে অবশ্যই পাসপোর্ট রাখতে হবে।ভাইবা সাধারণত ২ জন প্রফেসর নিবে।আমার একজন নাইজেরিয়ান প্রফেসর পরসিলো। আমি উনার এক্সেন্ট কিছুই বুঝতেছিলাম না। আপনি কিছু না বুঝলে অবশ্যই উনাদের কে বলবেন। উনারা খুবি ফ্রেন্ডলি।পরে আমার ভাইবা একজন জার্মান প্রফেসর নিসিলেন। প্রথমেই উনারা আপনার পাসপোর্ট দেখে ভেরিফিকেশন করবে। তারপর আপনাকে ভাইবার প্রসেস গুলা বলবে। ৩ টা ধাপ থাকে। প্রথম ধাপে আপনার জার্মান এ আসার মোটিভেশন জানতে চাবে,এর পরের ধাপে আপনার থিসিস অর জব রিলেটেড প্রশ্ন করবে এবং লাস্ট এর ধাপ এ আপনাকে আপনার কোর্স রিলেটেড কিছু সহজ বেসিক প্রশ্ন করবে।

এবার আসি আমার ভাইবা এক্সপেরিয়েন্স থেকে কিছু পরামর্শঃ প্রথমেই বলে রাখি কোনো কিছু উত্তর জানা না থাকলে বলে দিবেন যে জানেন না।কারন উনারা মিথ্যা বুঝতে পারে। এরপর ট্রাই করবেন গৎ বাঁধা উত্তর না দিতে। যেমন আমাকে আস্ক করসিলো মিউনিখ কেনো? আমি বলসিলাম এখানে রিসার্চ ফ্যাসিলিটি ভালো। তখন উনারা পাল্টা প্রশ্ন করসে যে মিউনিখ থেকে বচুম,ড্রেসডেন এ ফ্যাসিলিটি আরো ভালো। ট্রাই করবেন আপনার রিয়েল লাইফ মোটিভেশন বলার জন্য।যদি ভালো জার্মান জানেন তবেই কেবল বলবেন যে জানেন।অল্প অল্প পারেন এটা বললে বলবে যে ১ বছর পর ভালো করে শিখে আসাটাই বেটার। আর অবশ্যই আপনার থিসিস সম্পর্কে ভালো করে আইডিয়া নিয়ে যাবেন। আমাকে আমার কোর্স থেকে একটা মাত্র প্রশ্ন করসিলো। আমি প্রথমে উত্তর করতে পারি নাই।পরে উনারা আমাকে আপশন দেয়ার পর পারসিলাম।এটাই প্রমাণ করে আসলে উনারা খুব ফ্রেন্ডলি। নার্ভাস হওয়া যাবে না অ্যান্ড বি কনফিডেন্ট । এর পর আরেকটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো আপনার ইন্টেন্ডেট কোর্স এর কারিকুলাম সম্পর্কে আইডিয়া রাখা। এটা আপনি কোর্স ওয়েবসাইট এই পাবেন।উনারা আস্ক করবে কোন কোন কোর্স আপনার ব্যাচেলর এর সাথে বেস্ট ম্যাচ করে।

এক্সট্রা কিছু সাজেশনঃ অনেকেই মনে করে TUM এর চান্স এর জন্য সিজিপিএ ই সব। আসলে ব্যাপারটা একদম এ এরকম না। হ্যা ভালো সিজিপিএ একটা এডভান্টেজ। এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হলো আপনার মোটিভেশন লেটার। এটা অবশ্যই নিজের মত করে লিখবেন। কারো থেকে কপি না। আমি আবার ও বলতেসি এটা খুবি গুরুত্বপূর্ণ ।আরেকটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হলো জব এক্সপিরিয়েন্স। জার্মান রা এটাকে খুব প্রাধান্য দেয়।

Intended Course: M.Sc in Civil Engineering Profile:B.Sc in Civil Engineering from CUET CGPA 3.2, IELTS 7, 1 journal & 1 conference paper, 6 months job experience. সব হয়তো সাজিয়ে লিখতে পারি নাই।এর জন্য দুঃখিত। কারো কিছু জানার থাকলে আমাকে ট্যাগ করে দিবেন।





Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।