বিদেশে উচ্চশিক্ষাঃ মাস্টার্স এর জন্য।



বিদেশে পড়াশুনার স্বপ্ন কম বেশি সবারই থাকে কিন্তু উপযুক্ত গাইড লাইন এর অভাবে এবং সঠিক প্রসেস জানা না থাকার কারনে অনেকের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাই। অনেকেই মনে করেন বিদেশে পড়াশুনা- সেতো বিরাট হাঙ্গামার ব্যাপার, আমি মনে হয় পারবনা তখন দালাল বা এজেন্সির খপ্পরে পরে টাকা পইসা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন আবার কখনো কখনো প্রতারনার শিকার হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিতে হয়। অনেকে আবার মনে করেন “মাস্টার্স-পিএইচডি এইসব হলো এলিট শ্রেণীর জন্যে এবং অনেক টাকার ব্যাপার, এই ভয়ে অনেকে আবেদন করার সাহস করেন না। তাই যাদের যোগ্যতা এবং ইচ্ছা আছে তারা যেন ঘরে বসে দালাল বা এজেন্সি ছাড়া নিজে নিজে বিনা খরচে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে পারেন তার জন্য আমার এই খুদ্র প্রচেষ্টা। আজ আমি আলোচনা করব মাস্টার্স এর জন্য কিভাবে আবেদন করতে হয়।

আবেদন করার পূর্বশর্তঃ

১। মাস্টার্স এর জন্য আপনাকে অবশ্যই ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করতে হবে এবং জার্মান গ্রেড আনুযায়ি মিনিমাম সিজিপিএ ২.৫ থাকতে হবে যেটা বাংলাদেশের গ্রেড হিসাবে সিজিপিএ ৩ হয়ে থাকে। এখানে একটু বলে রাখি জার্মানির গ্রেড সিস্টেম বাঙ্গালদেশের উল্টা। এখানে ১ হচ্চে বেষ্ট এবং ৪ হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ পয়েন্ট।

২। ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা। ইউনিভার্সিটি ভেদে রিকয়েরমেন্ত ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।অধিকাংশ ভার্সিটি IELTS 6 আলও করে, তবে কিছু কিছু ভার্সিটির মিনিমাম রিকয়েরমেন্ত ৬.৫ হয়ে থাকে এবং ক্ষেত্র বিশেষ ইউনিভার্সিটি ভেদে কিছু কিছু বিষয়ের জন্য ৫.৫ স্কোরেও আবেদন করা যাই। কোন কোন ইউনিভার্সিটি আবার জার্মান দক্ষতা চাই সেক্ষেত্রে জার্মান ভাষা দক্ষতা সার্টিফিকেট A2 বা B1 লাগে।

৩। ব্লক অ্যাকাউন্ট এর জন্য ৮৪০০ ইউরো।যেটা এক বছরের জন্য ব্লক করতে হয় এবং প্রতি মাসে ৭০০ করে খরচের জন্য উঠান যায়। অবশ্য বৃত্তি পেলে আর ব্লক টাকার চিন্তা করা লাগবে না।

কোর্স সার্চঃ

বিদেশে পড়াশুনা করবেন এটা ফাইনাল করার পর এবং আপনার উপরের শর্ত পুরন করার পর প্রথম কাজ হবে পছন্দের সাবজেক্ট খুজে বের করা।বিভিন্ন কোর্স খোঁজার জন্যে সরাসরি এই লিংক এ ক্লিক করুন। http://www.daad.de/deutschland/studienangebote/international-programs/en/ বা http://www.tu9.de/graduate/master.php লিঙ্কে গিয়ে লেভেল, ফিল্ড অফ স্টাডি, এন্ড এ সাবজেক্ট এই প্যারামিটারগুলো ঠিক করে দিলে নিচে সবুজ বক্সে এভেইলেবল প্রোগ্রামের সংখ্যা দেয়া থাকবে। হলুদ বক্সে শৌ প্রোগ্রামস-এ ক্লিক করলে সব সাব্জেক্টের নাম লিঙ্ক সহ দেখাবে।

কোর্স বাছাই এবং অ্যাপ্লাই

সাবজেক্ট সিলেক্ট করার পর ভালভাবে দেখে নিতে হবে তাদের রেকুইরমেন্ত কি কি এবং সেই আনুযায়ি ডকুমেন্ট রেডি করতে হবে। অবশই ডেড লাইন খেয়াল রাখতে হবে কারন একেক ইউনিভার্সিটির ডেডলাইন একেক সমায়ে। কিছু কিছু ইউনিভার্সিটি সরাসরি অ্যাপ্লাই করা যাই তবে অধিকাংশ ইউনিভার্সিটি ইউনি এসিস্ত এর মাধ্যমে অ্যাপ্লাই করতে হয়।

এডমিশনঃ

সাধারণত আবেদন করার এক থেকে ২ মাসের মধ্যে এড মিশন এর ফলাফল আসে। কোন একটা ইউনিভার্সিটি থেকে এডমিশন কনফার্ম করলে দেরি না করে ভিসার জন্য পরস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে।

ভিসা আবেদনের জন্য কি কি লাগবে?

১।এডমিশন পাওয়ার পর প্রথম কাজ হবে জার্মানি তে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ওপেন করা। (ব্লক অ্যাকাউন্ট ওপেন করার ধাপ গুলো আমি অন্য লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করব)।

http://www.dhaka.diplo.de/contentblob/1669296/Daten/1275757/Merkblaetter_Studentenvisa_Download.pdf

২। এরপর পরই ভিসা ঈন্তেরভিএও এর জন্য এম্বাসিতে অফার লেটার সহ মেইল করতে হবে ভাইবা এর জন্য। (এম্বাসি ফেস করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবে এবং কি কি প্রস্তুতি লাগবে আমি অন্য লেখায় তা বিস্তারিত আলোচনা করব)। অবশ্যই ৬-৭ সপ্তাহ সময় হাতে রেখে ভিসার জন্যে এপ্লাই করতে হবে।

http://www.dhaka.diplo.de/Vertretung/dhaka/en/02/Einreise__Hauptbereich.html

বিস্তারিত জানতেঃ http://www.dhaka.diplo.de/contentblob/3447140/Daten/2622694/Studententermin.pdf

সর্বোপরি যে কোনো এজেন্সী থেকে সাবধাণ থাকুন। এজেন্সীগুলা হইলো একেকটা প্রতারনার ফাঁদ- শুধু বড়বড় কথা দিয়ে এডভের্টাইজ-করে, কিন্তু আসলে টাকা ছাড়া কিছু বুজেনা এবং তাদের কথার উপর বিশ্বাস করে অনেকই পথে বসেন। বাংলাদেশি স্টুডেন্টরা যাতে বেশি বেশি করে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে আসতে পারে তার জন্য bsfg এডমিন মোডারেটররা এই গ্রুপএর পিছনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং আপনাদের যাবতীয় প্রস্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছেন, তাই সবসমায় এই গ্রুপ এর সাথে থাকুন। যে কোন প্রস্ন নিসংকচে #question_bsfg tag দিয়ে পোস্ট করুন।


লেখকঃ শেখ আবু শাহিন

এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ থেকে করতে পারেন

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।