বিদেশী ভাষা শিক্ষা: কেন,কিভাবে ও কোথায় শিখবো?



লিখেছেনঃ ইকবাল তুহিন



আসসালামুয়ালাইকুম। আশাকরি সবাই ভালো আছেন, অনেক দিন থেকে বিদেশী ভাষা শিখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি লেখা লিখবো ভাবছিলাম। কিন্তু হয়ে উঠেনি। যাক অবশেষে সে কাঙ্ক্ষিত লেখাতে হাত দিলাম। ইউরোপে সাধারণত সবাই কমপক্ষে তিনটি ভাষাতে পারদর্শী হয়। ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহর দেশের লোক হয়েও ভাষা শেখায় বাঙ্গালীরা বেশ পিছিয়ে যা অনেক ক্ষেত্রেই অনেক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারন হয়। আমাদের এই বিদেশী ভাষা বিমুখিতা দূর করা খুব কঠিন কিছু নয়, শুধু দরকার চেষ্টার!


আমি কেন বিদেশী ভাষা শিখবো?


ভাষা মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের ভাষা শিখার মাধ্যমে আপনার উপযোগিতা ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ে। ভাষা শিখার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় (জাতিসংঘ,বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ), দূতাবাসে, উন্নয়ন সংস্থায় ও বহুজাতিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন। বিদেশে আমদানি রাপ্তানি বা নিজেই স্বাধীন ভাবে কোন এনজিও পরিচালনা করতে চাইলে ভাষা জ্ঞান থেকে অনেক সুবিধা পাবেন যেমন সমঝোতা(নেগোসিয়েসান),তদবির(লবিং), তহবিল সংগ্রহ(ফান্ডিং) ইত্যাদি।


  • উচ্চ শিক্ষা/গবেষণা বা চাকরির জন্য বিদেশ গেলে কি ভাবে ভাষা শেখা থেকে উপকৃত হব?

ইংরেজি ভাষার দেশ ছাড়া অন্য দেশে পড়াশুনা বা জব করার জন্য গেলে নানা রকম ভাষা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, বিশেষ করে প্রবাস জীবন শুরুর দিকে ভাষাগত অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। আপনি যে দেশে যাচ্ছেন, সেদেশের ভাষা মুটামুটি জানা থাকলে আপনাকে চাকরী পাওয়া, সামাজে মেশা, কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব কাজে অনেক সুবিধা দিবে। তাই সবার উচিত, যে যে দেশে যেতে চান সে দেশের ভাষা শেখা।


  • বিদেশী ভাষা শেখার মাধ্যমে আমি আমার দেশ, জাতি ও উম্মাহকে কিভাবে সেবা করতে পারবো?


ভাষা শুধু আয়-রোজকার বা যোগাযোগরে মাধ্যম নয় ভাষায় মাধ্যমে আপনি তুলে ধরতে পারেন আপনার নিজের দেশ, সমাজ ও ধর্মকে। জানিয়ে দিতে পারেন আপনার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিকে। বিশ্ব অঙ্গনে তুলে ধরতে পারেন আপনার চিন্তা- চেতনাকে। কূটনীতি(ডিফলোমেসি), তদবির(লবিং) ইত্যাদির মাধ্যমে উম্মাহকে নিয়ে যেতে পারেন ভিন্ন উচ্চতায়।


  • জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্য চর্চায় কিভাবে বিদেশী ভাষা শিক্ষা আমাকে সহযোগিতা করবে?

বিভিন্ন ভাষা জানার মাধ্যমে আপনি ওই ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় জানতে পারেন। জানার পাশাপাশি অনুবাদের মাধ্যমে আছে জানানো ও আয় করার সুযোগ। আছে বিভিন্ন দেশের সমাজ বাবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ।


কিভাবে বাংলাদেশে বিদেশী ভাষা শিখতে পারবো?


বাংলাদেশে বিদেশী ভাষা শিখার অন্যতম দুটি মাধ্যম হল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র, সংশ্লিষ্ট বিদেশী ভাষাভাষী দেশের দূতাবাস বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।


১) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট(অনেকগুলো ভাষা শিখা যায়), বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস সেন্টার(চীনা ভাষার জন্য)। তাছাড়াও অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শিখার সুযোগ আছে।


২) সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কালচারাল সেন্টার গুলো সাধারণত সেদেশের ভাষা শেখার ব্যবস্থা আছে, যেমন জার্মান কালচারাল সেন্টার(গ্যাঁটে ইনস্টিটিউট), এলায়েন্স ফ্রান্সাইস, ইরানি কালচারাল সেন্টার, রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার, ইন্দিরা গান্দি কালচারাল সেন্টার( হিন্দি) ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন বাক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠানে বিদেশী ভাষা শেখা যায়।


৩) অনলাইন: এখন অনলাইনে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা শেখা সম্ভব। ইউটিউবে প্রায় সব ভাষারই বিভিন্ন টিটিউটোরিয়াল আছে. এছাড়া আছে বিভিন্ন ওপেনসোর্স ভিত্তিক ওয়েবসাইট যেমন Coursera, edX, udemy, Khan Academy সেখানেও কিছু ভাষা শেখার উপকরন ও কোর্স আছে। ভাষা ভিত্তিক অনলাইন স্কুল বা প্লাটফর্মও আছে অনেক যা একটু গুগল করলেই পাবেন।


বিভিন্ন এপস এর মাধ্যমে বিদেশী ভাষার শেখার হাতে খড়ি হতে পারে। যেমনঃ Duolingo, HelloTalk ইত্যাদি। তাছাড়া এপ্স স্টোরে খুঁজলে পাবেন বিভিন্ন ভাষার উপর এপ্স। বিভিন্ন ভাষা ভিত্তিক ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্ৰুপ গুলো হতে পারে আপনার ভাষা শেখার একটা মাধ্যমে। অনেকে আবার এই ধরণের এপ্স ও গ্ৰুপে মাধ্যমে বিদেশী ভাষা ছাড়াও খুঁজে পেয়েছেন বিদেশী সঙ্গী ;) আপনাদের জন্য তাই সব মিলিয়ে অনেক শুভ কামনা থাকলো!


জার্মানিতে কোথায় বিদেশী ভাষা শিখবো?


জার্মানিতে বেশি ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যের সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য ভাষা শেখার সুযোগ আছে। তাছাড়াও আছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও ভাষা শেখার সুযোগ আছে। জার্মানিতে বিদেশী ভাষা শেখার অন্যতম একটু ভালো দিক হল আপনি যে ভাষা শিখছেন সেদেশের কাউকে পেয়ে যেতে পারেন ভাষা অনুশীলনের জন্য!


কিভাবে বিদেশী ভাষা শেখা শুরু করতে পারেন?


স্নাতক(আন্ডার গ্রাডুয়েশন/ব্যাচেলর) পড়ার শুরু করার প্রথম দিক থেকে ভাষা শেখা শুরু করা উচিত তাহলে অল্প অল্প করে আগালেও স্নাতকে পড়া কালীন চার বছরের ভিতর যেকোন একটি ভাষাতে ডিপ্লোমা করে ফেলা সম্ভব। যারা এখন এই পর্যায়ে নেই তাদের হতাশ হওয়ার কোন কারন নেই তারাও শুরু করতে পারে যেকোন সময়ে। ভাষা শেখার মূল হল চেষ্টা করা ও লেগে থাকা।


কোন কোন বিদেশী ভাষা শেখা ভালো হবে ?


আসলে এই প্রশ্নের নিদিষ্ট উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। আমি বলবো যে ভাষার প্রতি আপনার আগ্রহ বেশি বা যে দেশের প্রতি আপনার আগ্রহ বেশি সে ভাষা শেখা তুলনা মূলক সোজা হবে। তাছাড়া বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব ভাষা নির্বাচনে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ইংরেজির পরে বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতিক ও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হল ফরাসী, স্প্যানিশ, জার্মান, আরবি, চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, হিন্দি, পর্তুগিজ, ইতালিয়ান ইত্যাদি। মজার ব্যাপার হল কিছু কিছু ভাষা আপনি একটা শিখলে একই ভাষা পরিবারের ভাষাগুলো কম বেশী বুঝতে পারবেন বা খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারবেন। স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, ইতালিয়ান যেকোন একটা ভাষা পারলে আপনার জন্য অন্যগুলো খুব সহজ হয়ে যাবে, একই রকম ভাষা হল জার্মান ও ডাচ বা হিন্দি ও উর্দু।


**বাংলাদেশের বেশিভাগ মানুষের ইংরেজি ও আরবি শেখার সুযোগ আছে বিধায় তা এই লেখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।


ছবিঃ ইন্টারনেট

©️ লেখার মেধাস্বত্ব শুধুমাত্র লেখকের জন্য সংরক্ষিত

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।