ব্যাচেলর বা মাস্টার্সে যাদের থিসিস করা নেই তাদের উপায়



জার্মানিতে প্রায় সকল ইউনিতে ব্যাচেলর বা মাস্টার্সে শেষের দিকে থিসিস করতেই হয়। এটা এখানে ব্যাপার না স্টুডেন্ট বিজ্ঞান, মানবিক নাকি ব্যবসা অনুষদে পড়ছে। এমন কি একাডেমিক গ্রেড যতো ভালো বা খারাপ হোক না কেনো থিসিস এখানে করতেই হবে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাপারটা ভিন্ন। প্রায় ইউনিতে গ্রেজুয়েশন কমপিল্ট করতে থিসিস করতে হয় না। আবার কিছু ইউনিয়ের কিছু বিভাগ (বিশেষ করে বিজ্ঞান রিলেটেড বিভাগগুলো) ভালো গ্রেড থাকলে অল্প কিছু স্টুডেন্টকে থিসিস করার অনুমতি দেয়। বাদ বাকি সকল স্টুডেন্ট থিসিস করা ছাড়া যখন জার্মানিতে DAAD বা Erasmus Mundus স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে যায়, তখন বুঝতে পারে না কিভাবে আবেদন করতে হবে। তাই উপায়গুলো নিয়ে নিচে আলোচনা করলাম


১। আপনি যদি জার্মানিতে স্কলারশিপের জন্য আবেদন না করে, সাধারন ইউনিগুলোতে এমনি মাস্টার্সের জন্য আবেদন করেন (পিএইচডি না) তাহলে প্রায় ক্ষেত্রে আপনার আগের থিসিস করা অথবা না করা, ব্যাপার না। তবে হাতেগোনা কিছু ইউনি আপনার আগের থিসিস করা নিয়ে জিজ্ঞেস করে। বিশেষ করে যারা English literature, Political Science রিলেটেড কোর্সে পড়তে আসতে চায়। সেক্ষেত্রে আপনি আবেদনের ঐ ঘরটা খালি রাখবেন। তার মানে স্কলারশিপের ব্যাপারে চিন্তা না করলে আগে থিসিস করা নিয়ে তেমন চিন্তার দরকার নেই।


২। যদি আপনি DAAD বা Erasmus Mundus স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেন তাহলে প্রায় সময়ে আপনার থিসিসের টপিক কি তা জানতে চেয়ে একটা ঘর থাকে। আপনার থিসিস করা না থাকলে সেখানে আপনার যদি কোন জার্নালে পাবলিকেশন থাকে তাহলে সে টপিকের নাম দিবেন পাশে ব্র্যাকেটে অথবা কমা দিয়ে জার্নালের নাম এবং পাবলিকেশনের তারিখ দিয়ে দিবেন। যদি একাধিক পাবলিকেশন থাকে তাহলে বেস্ট বা রিসেন্ট যেটা সেটা উল্লেখ করবেন। আগেই বলে রাখি, থিসিস আর পাবলিকেশন এক না। কিন্তু কিছু ফিলআপ না করার চাইতে এটা দিয়ে ফিলআপ করা একটা বিকল্প চিন্তা ছাড়া কিছুই নয়।


৩। ধরলাম, আপনার থিসিস করা নেই, আবার কোন পাবলিকেশনও নেই তাহলে ভাববেন না। আপনি তখন থিসিসের ঘর এমনি খালি না রেখে আপনার পড়াশুনা করা অবস্থায় করা আপনার লেখা কোন ভালো রিসার্চ পেপার বা প্রজেক্ট পেপার থাকলে তার নাম দিয়ে দিবেন। তার সাথে ব্র্যাকেটে এটা যে রিসার্চ পেপার বা প্রজেক্ট পেপার তা উল্লেখ করে দিবেন। মনে রাখবেন, থিসিস আর প্রোজেক্টের পেপার মোটেও এক না। কিন্তু একেবারে থিসিসের টপিকের ঘর খালি রাখার চাইতে নিজের লেখা কিছু দিয়ে ফিলআপ করার কথা ভাববেন। আমার ব্যাক্তিগত মতামত, এতে সুবিধা হল প্রফেসর আপনার থেকে কিছু না কিছু পাচ্ছে।


৪। স্কলারশিপে আবেদন করার সময়ে থিসিসের টপিক লেখার ঘরে একেবারেই কিছু দেবার মতো না থাকলে এটাকে খালি রাখবেন। আবেদনের জন্য থিসিস থাকলে ভালো না থাকলেও আবেদন করতে অসুবিধা নেই। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই থিসিস ছাড়া DAAD বা Erasmus Mundus স্কলারশিপ নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যারা বিজনেস,‌ ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি অথবা সোশ্যাল সাইন্সে পড়েছেন তাদের আসলে চাইলেও থিসিস বা বিভিন্ন জার্নালে আর্টিকেল লেখার সুযোগ কম। অথচ স্কলারশিপ নিয়ে এমন ডিপার্টমেন্ট থেকে অনেকেই আসছে। তাই এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এটা ভুল কথা যে, থিসিস বা পাবলিকেশন না থাকলে স্কলারশীপ পাওয়া যায় না বা স্কলারশিপের সুযোগ কম। জার্মানিতে যারা স্কলারশীপে এসেছে তাদের ৭০ ভাগেরই আগে থিসিস করা বা পাবলিকেশন ছিল না। সত্য বলতে কিছু বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া, বাংলাদেশে বিভিন্ন বিভাগে আসলে চাইলেও এমন সুযোগ নেই। যেমন মার্কেটিং বা পলিটিক্যাল সাইন্সে বাংলাদেশে কোথায় থিসিস বা পাবলিকেশন করানো হয় আমার জানা নেই। আর DAAD বা Erasmus Mundus স্কলারশিপে আবেদন করতে কোন টাকা খরচ হয় না। আবার অনলাইনে আবেদন করলেই হয়, আলাদা করে পোস্টে পাঠাতে হয় না। তাই ঘরে বসে থেকে সুযোগ মিস করার কোন দরকার নেই। হোক বা না হোক আবেদন করতে কোন দোষ নেই।

লেখক Nur Mohammad

এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ থেকে করতে পারেন

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।