বাংলাদেশের মাস্টার্স দেখাবো কিনা? কিছু কনফিউশনের উত্তর



জার্মানিতে মাস্টার্সের জন্য আবেদন করার সময়ে অনেকের বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স করা থাকে। তখন নিজের ভিতরে একটা কনফিউশন তৈরি হয় যে, এই মাস্টার্স আবেদন করার সময়ে দেখবো কিনা? এতে পজিটিভ নাকি নেগেটিভ হবে?

এই লেখায় এসব খুঁটিনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া কনফিউশন দূর করার চেষ্টা করবো।

১। আপনার যদি বাংলাদেশ থেকে আগেই একটা মাস্টার্স করা থাকে এবং দ্বিতীয় মাস্টার্সের জন্য আপনি জার্মানিতে আবেদন করতে চান, তাহলে বাংলাদেশের মাস্টার্স দেখানোটা উচিৎ হবে। এইক্ষেত্রে আপনি যেমন ইয়ার গ্যাপটা ফিলআপ করতে পারছেন, আবার এই মাস্টার্সের জন্য নিজেকে কোয়ালিফাইড হিসেবেও প্রমান করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাছাড়া জার্মানির অনেক ইউনি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে ব্যাচেলার করে আবেদনের চাইতে বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স করে আবেদন করলে মনে করে তার এই সাব্জেক্টের নলেজ ভালো। এইক্ষেত্রে মাস্টার্স করে গ্রেড গড় পড়তায় অপেক্ষাকৃত খারাপ হলেও ইউনি আবেদনকারীকে ভালোভাবে বিবেচনা করার একটা সুযোগ তৈরি হয়।

২। আপনি যখন জার্মানিতে আপনার সেকেন্ড মাস্টার্সের জন্য আবেদন করবেন তখন মোটিভেশন লেটারের দিকে আলাদা করে নজর দিবেন। ঐ মোটিভেশন লেটারে আপনার দ্বিতীয় মাস্টার্স কিভাবে আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো হবে এবং আপনার আগের কোর্সে করা বিভিন্ন প্রজেক্ট বা কাজের অভিজ্ঞতার সুন্দরভাবে বর্ণনা করবেন।

৩। যদি আপনি বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স শেষ করে জার্মানিতে আবার ব্যাচেলরের জন্য আবেদন করতে চান, তাহলে আপনার বাংলাদেশের মাস্টার্স না দেখানো উচিৎ হবে। এই ক্ষেত্রে আপনি শুধু বাংলাদেশের ব্যাচেলর এবং অন্যান্য অভিজ্ঞতা (প্রজেক্ট বা জবের অভিজ্ঞতা) দেখাতে পারেন। তবে মোটিভেশন লেটারে অবশ্যই জানাবেন কেন দ্বিতীয় ব্যাচেলর করতে চান।

৪। মাথায় রাখবেন, অল্পকিছু জার্মান ইউনি মাস্টার্সের এডমিশনের ক্ষেত্রে সেইম কোর্স থেকে আগে একটা মাস্টার্স করলে নেগেটিভভাবে দেখতে পারে। এটা মুলত বাংলাদেশ থেকে যারা দ্বিতীয় মাস্টার্স করতে আসতে চান তাদেরকে উদ্দেশ্য করে না। এটা মুলত জার্মানি থেকে যারা মাস্টার্স শেষ করে এখানেই ভিসা বাড়াবার জন্য সেইম কোর্সে দ্বিতীয় মাস্টার্সে ভর্তি হতে চায় তাদেরকে লক্ষ্য করে করা। তবে আপনি যদি এমন ইউনি দেখেন যেখানে সেইম কোর্সে আগের একটা মাস্টার্স করলে নেগেটিভভাবে দেখার সম্ভবনা আছে, তাহলে আপনার আগের মাস্টার্স না দেখিয়ে ব্যাচেলর এবং জব এক্সপেরিয়েন্স (যদি থাকে) দেখিয়ে দিবেন। খুশির খবর, জার্মানিতে এমন নেগেটিভভাবে দেখা ইউনিয়ের সংখ্যা হাতে গোনা মাত্র অল্প কয়েকটা।

৫। ধরলাম, আপনি বাংলাদেশে মাস্টার্স শেষ না করে বর্তমানে মাস্টার্সের রানিং স্টুডেন্ট অথবা মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টার অথবা আপনার অবস্থা এমন মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে দিয়েছেন কিন্তু রেজাল্ট আসেনি। এই ক্ষেত্রে জার্মানিতে আবেদন করা ইউনিতে আপনি যে বর্তমানে মাস্টার্স এর স্টুডেন্ট তা জানাবেন। এই ক্ষেত্রে আপনি ইউনি বা কলেজের বিভাগ থেকে (ধরলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন) একটা বর্তমান স্টুডেন্ট হিসেবে সার্টিফিকেট নিবেন আর তার সাথে যেসব ক্রেডিট শেষ করেছেন (অথবা সেমিস্টারের মার্কশীট) তা আবেদন করার সময়ে জমা দিবেন।

৬। এমব্যাসিতে আপনার বাংলাদেশের মাস্টার্স নিয়ে প্রশ্ন করলে আপনি জার্মান মাস্টার্স আপনার ক্যারিয়ারের জন্য কেনো দরকার তা ভালোভাবে তুলে ধরবেন। এই ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ আপনি বলতে পারেন আপনার চাকরীতে প্রমোশনের জন্য এই ইউরোপিয়ান দ্বিতীয় মাস্টার্স খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আমার এই লেখা আপনার পরিচিত কারো উপকারে লাগলে তাকে ট্যাগ করে দিতে ভুলবেন না। আর আপনার ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের গ্রুপে ২০ জন মেম্বার যোগ করে দিবেন।


আমার দেয়া লেখা নিজেদের টাইমলাইনে ঝামেলা ছাড়া শেয়ার করতে চাইলে এই লিঙ্কের মাধ্যমে করতে পারেন http://tiny.cc/9f02nz

লেখক Nur Mohammad

এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ থেকে করতে পারেন

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।