ভার্সিটি পরিচিতি Hochschule für Wirtschaft und Recht - HWR Berlin


ভার্সিটির নাম Hochschule für Wirtschaft und Recht - HWR Berlin,। কি নাম উচ্চারণ করতে কষ্ট হচ্ছে? ব্যাপার নাহ, আমি ক্লাস শুরুর ৪ মাস পরে সঠিক ভাবে নাম উচ্চারণ করতে শিখেছিলাম। যদিও ইংরেজি তে খুব সহজ একটা নাম আছে, Berlin School of Economics and Law । তবে এটা মনে করার কোন কারণ নাই, এখানকার একাডেমিক কাজ কর্ম ইংরেজি তে ভার্সিটিতে নাম উচ্চারণ করার মতোই সহজ! এটা মূলত একটা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি। এখানে আপনাকে গৎবাঁধা পড়াশুনোর চাইতে হাতে কলমে শেখানোর উপরে জোর দেওয়া হবে বেশি! আমি এই পোষ্টের মাধ্যমে এই ভার্সিটি তে কেন আসবেন/আসবেন নাহ তার উপরে ছোট একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো! আসুন শুরু করি কথা না বাড়িয়ে......


#কেন_আসবেন_নাহ!

১। প্রতিদিন প্রায় ৬/৮ ঘন্টা ক্লাস করতে হবে একটানা (কোর্স ভেদে)! ২। ক্লাস এটেন্ডেন্স মেন্ডাটরি। সো ক্লাস ফাঁকি দিয়ে জব করার সুযোগ কম! (ছুটির দিন ব্যাতিত) ৩। জার্মানিতে আসার পর যতোবার ভাত খাবেন তার থেকে বেশি বার আপনাকে প্রেজেন্টেশন দেওয়া লাগবে। (আই মিন সিরিয়াস 📷:( ) ৪। এক্সামের সুযোগ কম, ট্রাম পেপার লিখতে হবে বেশি। (এক্সাম ছিল ভালো ছিল!) ৫। সেমিস্টার ব্রেক নিতে পারবেন নাহ যদি নাহ আপনি অসুস্থ থাকেন। ৬। প্রতিটা ক্লাস চার ঘন্টা করে! (দুই ঘন্টার পরে চোখে আঁধার দেখবেন বাংলাদেশে তো করেছেন মাত্র ৪৫ মিনিটের ক্লাস) ৭। প্রতি ক্লাসেই প্রায় আপনাকে পড়া করে যেতে হবে। আই মিন আপনাকে আগামী ক্লাসের উপরে ধারণা নিয়ে যেতে হবে। ৮। ক্লাস করে জবে করা টা অনেক টাফ হয়ে যাবে। (কেন টাফ হবে, আমি করছি নাহ, হু) ৯। ভয় পাবেন নাহ, চলেন এবার কেন আসবেন সেটা আলোচনা করি। 📷:P


#কেন_আসবেন

১। ভার্সিটির জব মার্কেটে বেশ ভালো সুনাম আছে। (নিজে জব পেলে দেন বিশ্বাস করবো) ২। পড়ার মান অনেক ভালো যদি আপনি পড়ুয়া হোন। (আমি তেমন নাহ, নিশ্চয় কেন আসবেন সেটা পড়ে বুঝে গেছেন এতক্ষণে) ৩। ছুটিরদিন ব্যাতিত সপ্তাহে একদিন ক্লাস থাকে নাহ, সো ইজিলি কাজ করতে পারবেন। ৪। একটু কষ্ট করলেই সিজিপিএস ভালো রাখতে পারবেন। ৫।রেসিজাম ফেস করবেন নাহ, যদি নাহ আপনি রেসিস্ট হন। ৬। ইউনিভার্সিটি একদম বার্লিনের সেন্ট্রালে সো জব পাওয়া একদম ইজি। ৭। টিচার স্টুডেন্ট রিলেশন বেশ ভালো। আপনি চাইলেই যেকোন হেল্প পাবেন শিক্ষকের কাছে থেকে। ৮। সেমিস্টার টিকেট পুরো বার্লিন কভার করবে। ৯। বড় শহরে থাকবেন সো জব মার্কেট সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা নিতে পারবেন। ১০। চাইলে ভলেন্টারি ইন্টার্নশিপ করতে পারবেন, এতে করে জব লাইফয়ে গিয়ে সুবিধা পাবেন। ১১। যেসব লেখকের বই পরে আপনার অনার্স শেষ করেছেন, তাদের ডিরেক্ট শিক্ষক হিসেবে পাবেন। ১২। যদি শুধু পড়াশুনো করবেন বলেই ঠিক করেন তো এটা হবে আপনার জন্য বেস্ট ইউনিভার্সিটি। আই রিপিট, বেস্ট ইউনিভার্সিটি। ১৩। প্রেজেন্টেশন নিয়ে আপনাকে আর ভয় পেতে হবে নাহ জীবনে আর কখনোই! (যে ভয় পাওয়ায় দিবে তাতেই আপনি তব্দা লেগে যাবেন! সরি জাস্ট জোকিং!) ১৪। থাকার যায়গাও খুব ইজিলি ম্যানেজ করতে পারবেন এখানে। (একটু চোখ কান খোলা রাখতে হবে শুধু)

আপাতত এগুলোই মনে পরছে। শুধু একটা কথাই বলি, শুধু আসার জন্য এই ভার্সিটে আইসেন নাহ, পড়াশুনার জন্য আসেন। দারুণ কিছু শিখতে পারবেন।




এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ থেকে করতে পারেন।


লেখক জয়িতা সাহা নূপুর (অরনী)

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।