মোটিভেশন লেটারঃ খুঁটিনাটি এবং স্যাম্পল

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির শর্ত হিসেবে মোটিভেশন লেটার চেয়ে থাকে। আজকে এটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।


মোটিভেশল লেটার কী?

সিমপ্লি, মোটিভেশন লেটার বলতে, আপনি কে, অতীতে উলেখযোগ্য কী কী করেছেন, আপনার বিশেষ গুণাগুণ( এখানে গুনাগুন বলতে একাডেমিক গুনাগুন বুঝানো হয়েছে, গান গাওয়া বা কবিতা আবৃত্তি না 📷:p ), কী জন্য এই সাবজেক্টে পড়তে চান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন, এই দেশ কেন সর্বশেষ এই এই সাব্জেক্ট ভবিষ্যতে আপনার ক্যারিয়ার গঠনে কিভাবে সাহায্য করবে এর লিখিত বর্ণনাকেই মোটিভেশন লেটার বলা হয়।


মোটিভেশন লেটারের গুরুত্বঃ

বিশ্ববিদ্যালয় যদি মোটিভেশন লেটার চেয়ে থাকে, আই রিপিট, যদি চেয়ে থাকে, তাহলে মোটিভেশন লেটার একাডেমিক সিজি এবং আইইএলটিসের মতোই গুরুত্বপূর্ন। ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে এর উপর নির্দিষ্ট পরিমানে পারসেন্টেজ থাকে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকেই বলে দেয় কতো পার্সেন্ট এবং কিছু

বিশ্ববিদ্যালয় গোপন রাখে। আই মিন, তারা মোটিভেশন লেটারকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়ে থাকে। আপনার ভর্তি পাওয়া না পাওয়া অনেকটা এই লেটারের উপর নির্ভর করে।


লেখার নিয়মঃ

লম কোনো অবস্থাতেই কপি করা যাবেনা। একান্তই নিজের হতে হবে। এবং এটা করতে হবে কয়েকমাস সময় নিয়ে। এমন না একবার বসলেন আর শেষ করে উঠে গেলেন। নিজের স্ট্রং পয়েনট খুজুন, রিসার্চ ইন্টারেস্ট খুজে বের করুন।


এটা লেখার নিয়ম একেকজন একেকভাবে বলে থাকেন। তবে, কয়েকটি বিষয়ের উপর ফোকাস করে নিজের মতো করে লিখে নিলেই হবে।


যেমনঃ

১) নিজের পরিচয়, স্কিল এবং একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড।আপনার সিভির সারাংশ বলতে পারেন। নিজের ঢোল নিজে প্রচুর পেটাতে হবে এখানে। প্রমাণ করতে হবে আপনি পৃথিবীর সেরা ছাত্রদের একজন। 📷:p

২) এই সাবজেক্ট কেনো। এই অংশে আপনি কেন এই সাবজেক্ট পড়তে আগ্রহী এবং আপনি কেনো এই সাব্জেক্টের জন্য রাইট ক্যান্ডিডেট সেটা লিখুন। ব্যাচেলরের সাথে রিলেটেড মাস্টার্স না হলে এই অংশে একটু ঝামেলা পোহাতে হয়। ব্যাচেলরে পঠিত মডিউল থেকে যে যে যায়গায় আপনার ইন্টেন্ডেড সাবজেক্তের মিল রয়েছে সেখানে ফোকাস করুন।

৩) এই বিশ্ববিদ্যালর কেনো। এখানে আপনার ইন্টেন্ডেড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরে বলুন যে, এটাই আমার কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালইয় যেটা আমি অনেকদিন থেকে খুজছিলাম।

৪) এই দেশ কেনো। আপনি যেই দেশে পড়তে চাচ্ছেন সে দেশ কেনো পছন্দ আপনার। রিসার্চে খুব ভাল, বিশ্বমানের ডিগ্রী, এখানে পড়লে ফিউচারে সব উড়ায় দিতে পারবেন ব্লা ব্লা লেখতে হবে।

৫) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। এই সাবজেক্ট ভবিষ্যতে আপনার কাজে কিভাবে লাগবে, এটা নিয়ে আপনার প্ল্যান ইত্যাদি লেখতে হবে। এই অংশ কনভিন্সিং করার একটা উপায় হচ্ছে, প্রতিটি সাবজেক্টের ওয়য়েবসাইটে ক্যারিয়ার প্রস্পেক্টস লেখা থাকে, সেখান থেকে আইডীয়া নিন, কিভাবে কাজে লাগাতে চাচ্ছেন।


লম না চাইলে কি দিতে হবে?

উত্তর হচ্ছে ‘না’। না চাইলে দিতে হবেনা। যেখানে চাওয়া হয় নাই সেখানে লমের উপর নির্দিষ্ট কোনো পারসেন্টেজ নাই। সুতরাং, আপনার দেওয়া না দেওয়া এডমিশন ডিসিশানে প্রভাব ফেলবেনা।


শুরু এবং শেষ কিভাবে করবো?

কে পড়বে এটা যদি জানেন, তবে ‘ডিয়ার অমুক’ বলে শুরু করতে পারেন। না জানলে ‘ডিয়ার স্যার’

অথবা ‘লেটার অব মোটিভেশন’ হেডীং দিয়ে ডিরেক্ট বক্তব্যে চলে যেতে পারেন। তবে শেষ করতে হবে নিজের ফুল নেইম, সিগ্নেচার এবং তারিখ দিয়ে।


সাইজঃ এক পেজের মধ্যের শেষ করুন এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভার্সিটি রিকোয়ারমেন্টস দেখুন।

বিঃদ্রঃ Comment box e একটা সেম্পল এটাচ করে দেওয়া হলো। এই লেটার দিয়ে একজন ভদ্রলোক অফার লেটার পেয়েছিলেন।


বি অরিজিনাল এন্ড গুড লাক!



লিখেছেনঃ কফিল মাহমুদ

ন্যাশনাল এন্ড ইন্টারনেশনাল এডমিনিস্ট্রেশন, ইউনিভার্সিটি অব পোস্টডাম, জার্মানি।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।