সিজিপিএ নিয়ে মন খারাপ?

যাদের সিজিপিএ নিয়ে মন খারাপ পোস্টটি তাদের জন্য।




এই পর্যন্ত জানতে চাওয়া সবচে বেশি প্রশ্নগুলোর একটা হলো,

'আমার সিজিপিএ ভালো না, আমি কি এপলাই করতে পারবো?'


'ভাই, আমার অনার্সের রেজাল্ট বিলো থ্রী। আমি কি এডমিশন পাবো? '


এই প্রশংগুলোর উত্তর দেওয়ার আগে কিছু বাস্তব উদাহরণ দেই।

আমার একটা ফ্রেন্ড, তার রেজাল্ট ৩ এর নীচে। জার্মানি আসবে একদম ডেসপারেট। প্রথমবার গুনেগুনে বিশটা ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করেছিলো এবং এই ২০ টা থেকেই রিজেকশন এসছে। কিন্তু সে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়।

পরেরবার আরো দশটা ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করলো। একেএকে রিজেকশন আসতে লাগলো। নয়টা থেকেই রিজেকশন আসলো। একদম শেষ দিকে একটা মেইল আসলো, যেটা সে নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলো না।


টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি মিউনিখ থেকে অফার লেটার আসলো। যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা জানেন যে, টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি মিউনিখ জার্মানির সবথেকে ভাল ইউনিভার্সিটিগুলোর একটি। সে এখন জার্মানিতে আছে।


আমার জানামতে এমন অনেক মানুষ জার্মানিতে এসেছে যাদের সিজিপিএ ৩ থেকে কম। এবারও আমার ইউনিভার্সিটির(সাস্ট) একটা জুনিয়র ২.৯ নিয়ে ভাল একটা জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাইছে।


গতো সেমিস্টারেও আমার জানা এমন কয়েকজন আছে যাদের রেজাল্ট আপনাদের ভাষায় খারাপ, কিন্তু টপ র‍্যাংকড জার্মান ইউনিভার্সিটিতে এসেছে।


আমার এটা মানতে কোনো অসুবিধা নেই যে, যাদের রেজাল্ট ভাল তারা এডভান্টেজ পাবে। এরমানে এই না যে, খারাপ রেজাল্ট নিয়ে চান্স পাওয়া যাবেনা। ভাল রেজাল্টধারীদের আপনারা ক্ষমা করে দিন।

মূল আলোচনায় আসি। রেজাল্ট খারাপ, কিন্তু জার্মানিতে পড়তে চাই। আপনার করণীয় কী?


  • যেহেতু রেজাল্ট ফাইনাল হয়ে গেছে, এটা চেঞ্জ করার সুযোগ নেই। মন খারাপ করা থেকে বিরত থাকুন।

  • আইইএলটিস এ খুব ভাল (৭) একটা স্কোর করুন।

  • কিছু এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটিজে যুক্ত হোন। এটা নিয়ে তুহিন ভাইয়ের একটা লেখা আছে, পড়ে দেখতে পারেন।

  • জব এক্সপেরিয়েন্স গ্যাদার করুন। এই ব্যাপারটা জার্মানরা খুব ভালো চোখে দেখে।

  • পারলে কিছু রিসার্চ ওয়ার্ক করুন। ন্যাশনাল অথবা ইন্টারনেশনাল জার্নালে আরটিকেল পাবলিশ করুন।

  • ভাল মোটিভেশন লেটার লিখুন।


এভাবে নিজের ভেল্যু এড করতে থাকেন। সবশেষে যখন আবেদন করবেন, রিকোয়ারমেন্টস যেখানে ECTS 2.5 চাওয়া হইছে সেখানে সিজিপিএ বিলো ৩ নিয়ে আবেদন করতে পারবেন না। যেখানে রেজাল্টের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, এমন ইউনিভার্সিটি সিলেক্ট করুন, যত বেশি আবেদন করবেন ততই সম্ভাবনা বাড়বে।

খারাপ রেজাল্ট নিয়ে চেষ্টা করতে তো কোনো দোষ নেই। মনে রাখবেন, সিজিপিএ বিলো থ্রী নিয়ে জার্মানিতে এসেছে এমন মানুষের সংখ্যা অগণিত।

সবার জন্য শুভকামনা।


লিখেছেনঃ কফিল মাহমুদ

ন্যাশনাল এন্ড ইন্টারনেশনাল এডমিনিস্ট্রেশন, ইউনিভার্সিটি অব পোস্টডাম, জার্মানি।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।