হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার শহরে ভ্রমন

শত ব্যস্ততার মাঝেও গতকাল সুযোগ হয়েছিল জার্মানির বিখ্যাত হ্যামিলন শহর ভ্রমনের। এটিই সেই শহর যাকে নিয়ে আমাদের ছোটবেলার সবার প্রিয় “হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা” গল্পটি রচিত হয়েছে।

আমরা গল্পটি যেভাবে পড়েছি সেটি হল, হ্যামিলন শহরের মানুষ ইঁদুরের জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে যায়। সেই শহরের মেয়র কোন ভাবেই ইঁদুর দূর করতে পারছিলনা। এর মধ্যে এক বাঁশিওয়ালা এসে বলে সে এই শহরের সব ইঁদুর সাফ করে দিবে এবং বিনিময়ে সে অর্থ দাবি করে যা সেখানকার মেয়র মেনে নেন। সে তার বাঁশির সুরে সব ইঁদুর নিয়ে নদীতে ফেলে এবং বাঁশিওয়ালা তার নির্ধারিত ফি দাবি করে। কিন্তু মেয়র বিশ্বাসঘাতকতা করে সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তার বাঁশির জাদুকরী সুর দিয়ে ঐ শহরের সব শিশুদের নিয়ে পাহাড়ের অন্যপাশে উধাও হয়ে যায়।

এই গল্পটি নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। ঐতিহাসিকদের মতে ঘটনাটি সত্যি সত্যিই ঘটেছে। আবার কিছু ঐতিহাসিকদের মতে এইটি মূলত রূপক অর্থে রচিত হয়েছে। উনাদের মতে যিনি গল্পটি রচনা করেছেন তিনি মূলত অংকিত কিছু চিত্র থেকে ধারনা নিয়ে উনার মত করে এটি লিখেছেন। তাদের মতে সেই শহরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক শিশু মারা যাওয়ায় সেটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কোন এক শিল্পী কাচের মধ্যে ঐ চিত্রটি অংকন করেছিল। তবে সব ঐতিহাসিকগণ একমত যে সেই শহরের প্রায় সব শিশুরা হঠাৎ হারিয়ে গিয়েছিল ( মারা গিয়েছিল/ নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল)।

আমাদের শহর থেকে ঐ শহরে যেতে সময় লেগেছে প্রায় ৫ ঘন্টা। সদ্য আগত এক ভাইয়ের সেমিস্টার টিকেট না থাকায় ১ ঘন্টা বেশি লেগেছে (এই ঘটনা নিয়ে আরেকটি গল্প হয়ে যাবে)। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমরা জানতাম না আমাদের স্টুডেন্ট টিকেট দিয়েই ঐ শহরে ফ্রি আসা যাওয়া করা যায়। যেহেতু এটি NRW এর বাহিরের স্টেটে সেহেতু আমরা ভেবেছি আমাদের এক্সট্রা টিকেট লাগবে এবং সে হিসেবে ৪১ ইউরো দিয়ে টিকেট কিনেছি যা আসলে দরকার ছিলনা। আপনারা যারা সেখানে যাবেন তারা আমাদের মত টিকেট কেটে ভুল করবেননা।

যাহোক, ছোট এই শহরটি কতটুকু সুন্দর আর গোছানো সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেননা। ছোট এই শহরের ট্রেন স্টেশনের সৌন্দর্য্য জার্মানির কোলন, বন, ডর্টমুন্ড ইত্যাদি বড় বড় অনেক শহরকে হার মানাবে নিশ্চিত। আমরা ৫ জনের মধ্যে কেউই এর আগে এখানে না আসার কারনে কারো কোন ধারণা ছিলনা কোথায় কোথায় দর্শনীয় স্থান গুলোর অবস্থান। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের মত হেটে হেটে যতটুকু সম্ভব উপভোগ করেছি। ইচ্ছা আছে আবার সেখানে যাওয়ার।

লেখকঃ জামান


Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।