AOK অভিজ্ঞতা এবং আমার খাঁটি ডয়েচ


লিখেছেনঃ বয়ন দে

AOK থেকে হেলথ ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট তোলার জন্য ১৯ তারিখ তাদের অফিসে যাই। গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ালাম, তখন দেখি দরজা খুলে না। মনে মনে বললাম ''চিচিংফাক"। নাহ! তাতেও হলো না। গুগোলে দেখলাম ওদের অফিস খোলা। তো আমি ভাবলাম হয়তো করোনার জন্য অফিস বন্ধ করে দিছে তাড়াতাড়ি। বাসায় চলে গেলাম। এরপর আজ 23 তারিখ আবার ওদের অফিসের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম আবারো খুলে না। কিন্তু সার্টিফিকেটটা much needed !


কি করবো এটা ভাবছিলাম আর আমার সাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখছিলাম কেউ ঢুকে কিন 😋 এরই মধ্যে একজন জার্মান মেয়ে এসে দরজার পাশে কি যেনো দেখলো কিছুক্ষণ, এরপর কল করলো। তো আমিও মেয়েটির তাকানো ফলো করে দেখি দরজার পাশের দেওয়ালে একটা নোটিশ লাগানো। পড়ে দেখলাম ওরা বলেছে Termin নেওয়া লাগবে। মোবাইলে দেখলাম ব্যালেন্স নাই, ভাবলাম whatsapp এ কল দি়ে দিই 😆 যা হোক এসব উলটাপালটা ভাবতে ভাবতে মনে পড়লো আমি তো ইন্টারনেট থেকেও রিচার্জ করতে পারবো। এরপর ৫ ইউরো রিচার্জ করে কল দিলাম। ডয়েচ পারিনা এতটা। কোনোমতে বললাম Ich bruche einen krakenversicherung, also brauche einen termin(আমার হেলথ ইন্স্যুরেন্স সার্টফিকেট লাগবে তাই আমার একটা এপয়েন্টমেন্ট দরকার) তো সে বললো-ওকে। তোমার কার্ড নাম্বার বলো, আমি সুন্দর করে বলে দিলাম। এরপর জিজ্ঞেস করলো Gebutsdatum(জন্ম তারিখ)। এটার মানে আমি জানি কিন্তু মহিলাটির ডয়েচ এক্সেন্ট ধরতে পারিনি তাই আমতা মতা করছিলাম😁 উনি তখন ইংলিশে বললেন Birthday, আমি যদিও ততক্ষণে ধরে ফেলেছিলাম উনি কি জানতে চাচ্ছেন। আমি তখন বললাম নয়েনযেন(১৯) সোয়েলফ(১২) ... এরপর যখন জন্মসাল বলবো তখন তাড়াহুড়োর কারণে অইটার ডয়েচ আর মুখ দিয়ে বের হলো না, খাঁটি ইংলিশে বলে দিলাম। শুনে মহিলাটি হি হি করে হাসলো ৫/৬ সেকেন্ড। এরপর জিজ্ঞেস করলো-haben sie einen maske?(আপনার কি মাস্ক আছে), আমিও ঝটপট বলে দিলাম Ja ich habe eine maske. তারপর বললো উনি ঠিকাছে আমি নিচে আসছি। নিচে এসে আমাকে ডাক দিলেন।

এত তাড়াতাড়ি আসবেন এটা আশা করিনি, হাজার হোক আমরা ''লেইট লতিফ'' জাতি ত 😄এরপর গেলাম যিনি সার্টিফিকেট দিবেন উনার কাছে। এই মহিলার সাথেও ডয়েচে কথা বলছিলাম কিন্তু মাঝেমধ্যে আটকাচ্ছিলাম দেখে উনি ইংলিশে কথা বলতে চাচ্ছিলেন কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা, ডয়েচেই আমাকে বলতে হবে। তাই উনি অগত্যা ডয়েচেই আমাকে প্রশ্ন করলেন। যখন আটকাচ্ছিলাম তখন উনি ইংলিশে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন বারবার। বাসার ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেন, আমি বললাম কার্ডে আমার পুরনো বাসার নাম্বার দেয়া, বর্তমানটা বললাম৷ তারপর আরো কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে মাত্র ২ মিনিটের মধ্যেই সার্টিফিকেট বের করে দেন। আমি সার্টিফিকেটটা খামে ঢুকিয়ে চেয়ার থেকে ওঠার সময় উনি বললেন আমাকে গেইট পর্যন্ত এগিয়ে দিবেন। ভালোই লাগো এমন আচরণ 🥰 মনে করিয়ে দিলেন যে আমার কার্ডে আমার বর্তমান ঠিকানাটা যতদ্রুত সম্ভব আপডেট করিয়ে নিতে।।

আমি এই দুই মহিলার সাথেই ডয়েচে কথা বলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আর এই জিনিসটা করলে ওরা খুশি হয়। এমন না যে এরা ইংলিশ পারেনা, ওদের বেশিরভাগই মনে হয় ইংলিশ পারে কিন্তু বলতে চায় না। তবে আপনি যদি ডয়েচে কথা বলতে গিয়ে আটকানো শুরু করেন তখন দেখবেন ওরা ইংলিশে কথা বলতে চাচ্ছে কিংবা ইংলিশে বুঝিয়ে দিবে।


বয়ন দে শিপ

M.Sc in Web and Data Science

Universität Koblenz - Landau


Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।