ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাংলাদেশ পৃথিবীতে অনন্য


লিখেছেনঃ ইকবাল তুহিন


আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বীকৃতির দিক থেকে পৃথিবীতে গর্ব করতে পারে। জার্মানিতে বর্তমানে সরকারী হিসাবে জনসংখ্যার প্রায় ৫.৭% ভাগ মুসলিম ধর্মের অনুসারী কিন্তু জার্মান নাগরিক নয় কিন্তু জার্মানিতে বসবাস করে এই রকম মুসলিম হিসাবে নিলে আমার মনে হয় এটা জার্মানিতে বসবাস করা মানুষের ১০% মত হতে পারে! এত বড় একটা সংখ্যক মুসলিম থাকার পরও জার্মানিতে ঈদের দিনে কোন সরকারি ছুটি নেই! নেই কোন আলাদা আয়োজন, বেশি ভাগ ক্ষেত্রে নেই কোন সরকারী শুভেচ্ছা বার্তা, বিভিন্ন রাজনিতিক নেতাদের কোন বিশেষ শুভেচ্ছা, মুসলিম কমিউনিটির সাথে দেখা করে তাদের ভাবের আদান প্রদান! মসজিদের মিনার নির্মাণে লাগে বিশেষ অনুমতি, যা অনেক ক্ষেত্রেই মেলেনা। বেশি ভাগই মসজিদে মাইকে কোন আজানের আহবানের অনুমতি নেই। আজ ঈদ উপলক্ষে আগামী জার্মান নিবাচনে চ্যান্সেলর বা সরকার প্রধান প্রার্থী SPD দলের মার্টিন সুলজ মুসলিমদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনায় পরেছেন অনেকের থেকে অপর দিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন CDU দলের প্রার্থী এঞ্জেলা মারকেলের কোন শুভেচ্ছা বার্তাই নেই ঈদ উপলক্ষে! এক্ষেত্রে ব্রিটেন, কানাডা ও আমেরিকা অনেক সহনশীল।


আর বাংলাদেশে জনসংখ্যার ১% বৌদ্ধধর্ম আর ১% খ্রীষ্টধর্মের অনুসারী হওয়ার পরও তাদের দিবসগুলোতে সরকারি ছুটি, সরকারি শুভেচ্ছে, রাষ্ট্র সাহায্য সহযোগিতা, পূর্ণ স্বাধীন ভাবে ধর্মীয় প্রতিস্তান নির্মাণ, প্রকাশে ধর্মীয় আহবান, বিভিন্ন সামাজিক রাজনীতিক নেতাদের শুভেচ্ছা, বিভিন্ন ধর্মীয় কমিউনিটির সাথে দেখা করা, মিডিয়ায় বিভিন্ন আয়োজন চলে যা প্রকাশ করে আমাদের ধর্মীয় সহনশীলতা আর স্বাধীনতার প্রিচ্ছবি 🙂 মুসলিমদের পরে বড় ধর্মীয় সম্প্রদায় হিন্দুদের কথা চিন্তা করলে আরও ভালো লাগে তাদের বিভিন্ন পূজা- পার্বণে আমাদের আরও ছুটির নুষঙ্গ হয় 🙂 আমি আমার বাংলাদেশকে নিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার জায়গায় অনেক বেশি গর্বিত এবং একজন বাংলাদেশী হওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি 🙂 এই বাংলাদেশে যেমন একজনের শূকর খাওয়ার অধিকার আছে তেমন একজনের তা না খাওয়ার অধিকার আছে, এখানে যেমন একজনের গরুর গোশত খাওয়ার অধিকার আছে আবার তা না খাওয়ার অধিকার আছে।

অনেকে বলতে পারেন বাংলাদেশেতো অন্য ধর্মের মানুষের উপরতো মাঝে মাঝে বিভিন্ন উগ্রপন্থীরা হামলা চালায় বা তাদের সমস্যা করে। এই জন্য আমি বাক্তিগত ভাবে অনেক লজ্জিত হই এবং আমার বিশ্বাস এটা বেশিভাগ শান্তিকামী ও সহনশীল বাংলাদেশীকেই কষ্ট দেয়। আর খেয়াল করলে দেখবেন এটা যারা করে তারা বেশিভাগ ক্ষেত্রেই বাক্তিগত লোভ ও প্রতিহিংসা থেকেই বেশি করেন। আমার মনে হয় এই উগ্রদের সবাই মিলে সায়েস্তা করা উচিত যে ভাবে আমারা বাংলাদেশে বন্ধু বানাতে দেখিনা কারকি ধর্মীয় পরিচয়। বাংলাদেশের সরকারি চাকরীতে বা সরকারী ভাবে সবাই সমানে এবং আমারতো মনে হয় অনেক ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পায়। এই দেশে যেমন মন্দির, প্যাগোডা গির্জার যেমন ঘণ্টা বাজে তেমন মাইকে আজান হয় আবার আমি দেখেছি নামাজের সুবিধার জন্য কীর্তন বন্ধ রাখা হয়। কোরবানিতে হিন্দু বাড়ীর থেকে দূরত্ব রেখে গরু কোরবানি দেওয়া হয় ...এই আমার প্রাণের বাংলাদেশ।

জার্মানির উচিত আরও বেশি সবাইকে আপন করে নেওয়া আসলে বৈচিত্র্যকে শক্তি আর আনন্দের উৎস পরিণত না করলেই মানুষের মনে বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হয় তাই উগ্রবাদীদের শক্তিতে পরিণয় হয়। ইন্টিগ্রেশন করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হয় সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় জার্মানির মুসলিমরাই মূল ধারার রাজনীতি ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে মিশতে কম পারছে। সমাজের বড় অংশেরই দায়িত্ব যে দুর্বল তাকে হাতে ধরে তুলে আনা। পারস্পরিক সহনশীলতা, সম্মান, ভালোবাসা, সহনশীলতা একটা সমাজকে সুন্দর করে তুলতে পারে।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।