ECTS: খুঁটিনাটি

অনেকেরই প্রশ্ন, আমি ব্যাচেলরে ১৩০ ক্রেডিট কমপ্লিট করেছি, এখন ইউরোপিয়ান ক্রেডিট সিস্টেম (ECTS = European Credit Transfer System) এ আমার ক্রেডিট কতো?

ওয়েল, প্রথমে আসি ক্রেডিট কী সেই আলোচনায়।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে ক্রেডিট কিন্তু গ্রেড না।

তাহলে ক্রেডিট কী?

ক্রেডিট হচ্ছে একটা কোর্সের পেছনে আপনি কতো সময় ব্যয় করেছেন সেটার রিপ্রেজেন্টেশন।

আরেকটু সহজ ভাষায় বলি।


বাংলাদেশি ক্রেডিটঃ

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমেরিকান ক্রেডিট সিস্টেম ফলো করে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশে এক ক্রেডিট কমপ্লিট করতে হলে আপনাকে একটা কোর্সের পেছনে অন্তত ৪৫-৫০ ঘন্টা সময় দিতে হবে। এই ৪৫-৫০ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ১৫ ঘন্তা হতে হবে ক্লাস এংগেইজমেন্ট, এর মানে অন্তত ১৫ ঘন্টা ক্লাস এবং বাকি সময় সেলফ স্টাডি করলে তবেই আপনি একক্রেডিট পাবেন। অর্থাৎ যদি ৩ ক্রেডিট আর্ন করতে চান তাহলে আপনাকে ৪৫ ঘন্টা ক্লাস এবং এরাউন্ড ১০০ ঘন্টা নিজে পড়তে হবে।

বাংলাদেশে সাধারণত ছয়মাসে এক সেমিস্টার পড়ানো হয়, এবং ক্লাসের জন্য সাধারণত বরাদ্দ রাখা হয় বারো-চৌদ্দ সপ্তাহ। প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে ক্লাস হয়, যেনো ক্লাস করার বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও পুরণ হয়। যদিও আমাদের স্যার-ম্যামরা ৩০ মিনিট ক্লাস নিয়ে তিনটা এটেন্ডেন্স নেওয়ার ব্যাপারে কার্পণ্য করেন না। দেখেন, তারা কিন্তু দুইনাম্বারি করে হলেও সপ্তাহে ৩ ঘন্টা ক্লাস দেখিয়ে দেন যেন ক্রেডিট আওয়ার এর শর্তটি পুরণ হয়।

এখন আসি ইউরোপিয়ান ক্রেডিটের আলোচনায়।


ECTS বা ইউরোপিয়ান ক্রেডিট ট্রান্সফার সিস্টেমঃ

এক ইসিটিএস আর্ন করতে হলে ২৫-৩০ ঘন্টা সময় দিতে হবে। এই ২৫-৩০ এর মধ্যে মধ্যে অন্তত আট ঘন্টা হতে হবে কন্টাক্ট আওয়ার্স বা ক্লাস ওয়ার্ক। সুতরাং ছয় ইসিটিএস একটা কোর্স করতে হলে অন্তত ৪৮ ঘন্টা ক্লাস করতে হবে এবং বাকি সময় (এরাউন্ড ১০০ ঘন্টা) নিজে পড়তে হবে।


এখন আসি মূল আলোচনায়

এই আলোচনার পর আমরা কী বুঝলাম?

আমরা বুঝলাম হচ্ছে, বাংলাদেশি এক ক্রেডিট আর্ন করতে হলে সময় দিতে হিবে ৪৫-৫০ ঘন্টা যা ইউরোপিয়ান এক ক্রেডিট আর্ন করতে যত সময় (২৫-৩০ ঘন্টা) লাগে তাঁর অলমোস্ট ডাবল।

অর্থাৎ, আপনার এক ক্রেডিট ক্রেডিট ইউরোপিয়ান প্রায় দুই ক্রেডিটের সমান। জ্বি, ঠিকি শুনেছেন, দুই ক্রেডিটের সমান। এখন আসি একদম স্ট্রেইট হিসাবে।

জার্মানিতে এক বছরে ৬০ ইসিটিএস পড়ায়, এবং এটা ফিক্সড। এর কম বেশি হয় না। প্যাচ লাগে হচ্ছে, বাংলাদেশে একেক ইউনিভার্সিটি একেক নাম্বারের ক্রেডিট পড়ায়। ধরলাম, বুয়েটে ১৭০ ক্রেডিট শেষ করলে বিএসসি ইন সিএসসি ডিগ্রী দেয়, সাস্টে দেয় ১৬০ ক্রেডিট কমপ্লিট করলে।

এই গড়মিল এড়ানোর জন্য আমাদেরকে খুবই সহজ হিসাবের মধ্যমে ইসিটিএস বের করে নিতে পারবো।

হিসাবের একটা উদাহরণ দিই।

আমি বাংলাদেশে ব্যাচেলরে ১৪৭ ক্রেডিট করার পর আমাকে তারা সার্টিফিকেট দিয়েছে। অর্থাৎ আমি চার বছরে ১৪৭ ক্রেডিট করেছি। এর মানে, একবছরে আমি করেছি ৩৬.৭৫ ক্রেডিট, যা ইউরোপিয়ান ক্রেডিট ৬০ এর সমান। এখন আমার এক ক্রেডিট সমান ইউরোপিয় কতো ক্রেডিট তা বের করতে ৬০/৩৬.৭৫=১.৬৩ । অর্থাৎ ৬০ কে আমি ৩৬.৭৫ দিয়ে ভাগ করেছি।


অর্থাৎ আমার এক ক্রেডিট সমান জার্মান ১.৬৩ ক্রেডিট।

এখন যদি জার্মান ইউনিতে ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে সাব্জেক্ট স্পেসিফিক রিকোয়ারমেন্ট চায়, ধরুন, বললো, রিসার্চ মেথডলজিতে ১২ ECTS থাকতে হবে। আমার আছে দেশি ক্রেডিটে ৯ ক্রেডিট। এটা কীভাবে বের করবো?


খুবই সিম্পল! আমি আগেই জেনে গেছি, আমার এক ক্রেডিট = জার্মান ১.৬৩ ক্রেডিট। সুতরাং ৯ ক্রেডিটকে ১.৬৩ দিয়ে গুন দিলেই পেয়ে যাবো আমার এই রিকোয়ারমেন্ট ফিল আপ হয় কি না।

রিসার্চ মেথডসে আমার আছে ১.৬৩*৯=১৪.৬৭ জার্মান ক্রেডিট, আমার এই যোগ্যতা মিলে গেলো!

আশাকরি এটা নিয়ে আর কোনো কনফিউশ থাকবেনা।

পোস্টটি শেয়ার করতে পারবেন এই লিঙ্ক এর মাধ্যমে https://bit.ly/2SGAiCJ

শুভ কামনা!



Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।