IELTS সাজেশন্স for Strategic Preparation



লিখেছেন Kawsar Ul Hoq

Bonn, Germany

IELTS: 7.5 (L-8.5, R-7.5, W-6.5, S-7)

Exam: October 13, 2018.


IELTS preparation এর মাধ্যমে শুরু হয় উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি। সময় স্বল্পতা ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকের জন্য IELTS EXAM সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। কোচিং ছাড়া সম্পূর্ণ নিজ প্রস্তুতিতে IELTS পরীক্ষা দিয়েছি এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়েছি। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এবং পরবর্তিতে IELTS Trainer হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বেশকিছু বিষয় উপলব্ধি করেছি, যা IELTS পরিক্ষার্থীদের জানা থাকলে প্রস্তুতিপর্বটা সহজ হবে এবং ওভারঅল স্কোর ভাল হবে আশাকরি।


IELTS প্রস্তুতিতে আমাদের বড় সমস্যা Wrong Approach. Listening and Reading তুলনামূলক সহজ ভেবে আমরা ধরে নেই এদুটোতে ভাল স্কোর তুলবো। আর Speaking and Writing এ মোটামুটি স্কোর পেলে ওভারঅল 7+ পাবো। তাই লিসেনিং, রিডিং এ বেশি সময় ব্যয় করি। অন্যদিকে স্পিকিং, রাইটিং প্র্যাকটিস শুরু করি পরীক্ষার কিছুদিন আগে থেকে। মূলত এটা বাজে একটা এপ্রোচ। IELTS পরীক্ষায় সবচেয়ে কঠিন হলো রিডিং মডিউল। এর স্কোর উঠানামা করে এবং কমবেশি সবাই এই অংশে দুর্বল। অন্যদিকে Speaking & Writing এ কিছুটা কৌশলী হলে, রিডিং এর অর্ধেক সময় ব্যয় করে ৭+ পাওয়া সম্ভব। রাইটিং এর স্কোর Consistent থাকে। কিছুদিন প্র্যাকটিস করে স্কিল ডেভেলাপ করলে নিয়মিত ৬.৫, ৭ পাওয়া যায়। স্পিকিং এ সম্ভাব্য টপিকগুলোর উত্তর আগে থেকে গুছিয়ে নিলে সহজে ৭ পাওয়া সম্ভব। রিডিং এ কিছু কম পেলেও ওভারঅল ৭+ নিশ্চিত করার জন্য স্পিকিং ও রাইটিং বেশী হেল্প করবে। তাই প্রথম থেকেই এগুলোর প্রস্তুতি নিতে হবে।


আরেকটা সমস্যা হল প্রস্তুতিতে ভুল Strategy অনুসরণ করা। ফলশ্রুতিতে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়ার পরও তেমন কোন ইম্প্রুভমেন্ট চোখে পড়েনা। মানুষজন ইম্প্রুভমেন্ট নিয়ে কাজ করে কম, Practice test দেয় বেশী। Particular Question type নিয়ে কাজ করলে সেটাতে দক্ষতা বাড়বে। এভাবে সবগুলো প্রশ্নের ধরণ নিয়ে কাজ করতে হবে। টেষ্ট কম দিয়ে ইম্প্রুভমেন্টে বেশী মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। সপ্তাহে ২, ৩ টা টেস্টই যথেষ্ট। এখানে প্রতিটা মডিউলের প্রস্তুতি নিয়ে কিছু টিপস শেয়ার করছি যেগুলো ভাল স্কোর পেতে সাহায্য করবে।


Speaking:

স্পিকিং এর জন্য রিসেন্ট টপিকগুলোর উপর ভালভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। IELTS এ প্রতি চারমাসের (Jan-Apr, May-Aug, Sep-Dec) জন্য ১০০-১৫০ টা টপিক লিস্ট থাকে। ঘুরেফিরে সেগুলোই কিউকার্ড বা ডিসকাশন পার্টে আসে। ইন্টারনেট থেকে স্যাম্পল আনসার পড়ে নিজের মতো করে প্রতিটা টপিকের উত্তর আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। ৪০-৪৫ টা টপিকের উপর প্রস্তুতি নিলে মোটামুটি কমন পড়বে এবং সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করা যাবে। যেমন ধরুন, সেন্টমার্টিন সম্পর্কে উত্তর গুছিয়ে রাখলে এ সম্পর্কিত সবগুলো টপিকের (Traveling, Quiet place, recent trip, favorite place) উত্তরে সেন্টমার্টিন দিয়ে চালিয়ে দেয়া যাবে। উত্তর রেডি থাকলে ফ্লুয়েন্সি বাড়বে, ভুল কম হবে, এবং grammar and pronunciation এ বেশী মনোযোগ দিতে পারবেন। কী বলবেন সেটা ঠিক করা না থাকলে ২ মিনিট কথা বলা কঠিন, একই কথার রিপিট হয়। It leads to more Error, less fluency. As a result, poor presentation.


আপনি যদি ইংরেজিতে মোটামুটি ভাব প্রকাশ করতে পারেন, তাহলে প্রথমদিকে স্পিকিং পার্টনার না খুঁজে নিজে প্রস্তুতি নেওয়াটা বেশি কার্যকরী। পার্টনার আপনার weakness ধরিয়ে না দিয়ে আপনার স্ট্রং পয়েন্ট; pronunciation ভাল, word choice ভাল, সহজেই আইডিয়া গেদার করতে পারেন; এসব বলবে, যা আপনাকে খুব একটা সাহায্য করবেনা। একটা প্রশ্ন নিয়ে স্পিকিং রেকর্ড করুন এবং সেটা পুনরায় শুনুন। টপিক সম্পর্কে যেহেতু পূর্বপ্রস্তুতি থাকবে, তাই এখন Pronunciation, Sentence Structure, Grammar এর ভুলগুলো শুধরে নিন। একই প্রশ্নের আনসার কয়েকবার রেকর্ড করুন এবং ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে Fluency ও Pronunciation ইম্প্রুভ হবে, কনফিডেন্স লেভেল বাড়বে।


স্পিকিং পার্টনারের সাথে প্রতিদিন ৩-৫ টা টপিক নিয়ে আলোচনা করুন। আগামীকাল কোন টপিক নিয়ে আলোচনা করবেন সেটা আজই ঠিক করে নিন। এতে করে কোন নির্দিষ্ট টপিকে অনেক ইনফরমেশন এক্সচেঞ্জ হবে। একে অন্যের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নিজের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারবেন। এভাবে মাসখানেক প্র্যাকটিস করলে সব টপিক কভার হয়ে যাবে।


Speaking Part-One এর জন্য সবচেয়ে কার্যকরী Shafin’s Speaking part -1 এর লেসনটা। এই পার্টে ফ্লুয়েন্ট হোন, তাহলে অন্য পার্টগুলোয় ভাল বলতে পারবেন।

Recent question এই সাইটে মাস, দেশসহ দেওয়া আছে। Cue Card sample answer এই সাইটে ভালমানের কিছু সেম্পল আনসার আছে।


Writing:

রাইটিং এ সবচেয়ে কার্যকরী ieltsliz রাইটিং স্যাম্পলগুলো। লিজের রাইটিং স্ট্রাকচার সিম্পল, স্টান্ডার্ড এবং সহজে আয়ত্ব করা যায়। তার Task-1 লেসন ও স্যাম্পল আনসারগুলো বেস্ট। Bar, Line, Pie, Table, diagram প্রতিটা টাস্ক আলাদা, লেখার ধরণ, শব্দ ব্যবহার ও আলাদা। প্রত্যেক টাস্কের ২-৩ টা করে স্যাম্পল আনসার related words সহ একেবারে মুখস্ত করে ফেলুন। তাহলে যেকোন গ্রাফের ট্রেন্ড কী, কোন কোন বিষয় কিভাবে তুলনা করতে হবে, Sentence Structure কেমন হবে তা সহজে বুঝতে পারবেন এবং লেখার মান ও উপস্থাপন ভাল হবে। যেমন, বাটারের ব্যবহার প্রথমদিকে কিছুটা বেড়ে পরবর্তিতে ব্যপকভাবে কমে গেলে, লাইন গ্রাফে সেটা এভাবে লিখতে হয়, ‘With regards to the amount of butter used, it began at around 140 grams and then peaked at 160 grams in 1986 before falling dramatically to about 50 grams in the last year.’


রাইটিং প্র্যাকটিসের জন্য পার্টনারের সাথে আগামীকালের টাস্ক (Bar or table) ঠিক করে নিন। কয়েকটা স্যাম্পল পড়ে দুজনই একই টাস্ক লিখবেন এবং একে অন্যেরটা Evaluate করবেন। এতে আপনি কি লিখেছেন সেটার মূল্যায়নও হবে, আর কিভাবে আরো ভাল করা যেতে পারে সে সম্পর্কে আইডিয়া পাবেন। সপ্তাহে অন্তত ৩,৪ টা টাস্ক-১ লিখতে পারলে ১ মাসে প্রস্তুতি বেশ পাকাপোক্ত হবে।

Task-2 তে Liz এর স্ট্রাকচার ফলো করুন। তার সাইটের স্যাম্পলগুলো পড়ে কোন টাইপের essay কিভাবে লিখতে হয় ভালভাবে বুঝে নিন। এই অংশে টপিক সম্পর্কে ভাল আইডিয়া থাকলে লেখা সহজ হয়। তাই সম্ভাব্য টপিকগুলো নিয়ে যতবেশি সম্ভব বিভিন্ন ব্লগ থেকে স্যাম্পল আনসার পড়বেন। লেখা শুরুর আগে প্লানিং এখানে গুরুত্বপূর্ণ; ৫-৮ মিনিট প্লানিং করুন। কী লিখতে যাচ্ছেন সেগুলো পয়েন্ট আকারে টুকে নিন, তারপর লেখা শুরু করুন। প্র্যাকটিস করার সময় টপিক নিয়ে পার্টনারের সাথে আলোচনা করুন। এতে আইডিয়া জেনারেট হবে।


Advantage, disadvantage or Cause, effect টাস্কগুলোতে বেশি পেয়েন্ট না লিখে ১, ২ টা পয়েন্ট লিখে উদাহরনসহ expand করুন। এরফলে লেখায় cohesion and coherence বজায় থাকে। প্রতিটা বডি প্যারাগ্রাফ এভাবে লিখুন, Topic Sentence-> Expand with detail-> Example. লেখা শেষে Spelling mistake, grammar correction, rewrite এর জন্য অবশ্যই ৬-১০ মিনিট সময় হাতে রাখবেন। যেখানে ৭ পাওয়ার কথা, শুধুমাত্র Spelling mistake এর জন্য ৬ পেতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত ১ টা Task 2 লিখুন।

Task 2 এর জন্য Pauline Cullen এর ieltsweekly ওয়েবসাইট ও বইটা বেশ কাজে দিবে। Task 1 এর জন্য ielts-up ভিডিওগুলো দেখতে পারেন।

Listening:

আমার মতো মুভি দেখার অভ্যাস থাকলে লিসেনিং নিয়ে কিছুটা রিলাক্সে থাকতে পারেন। এই পার্টে সহজে ভালো স্কোর তোলা যায়। পরীক্ষায় লিসেনিং পার্ট প্রথমে হয়। তাই এটাতে ভাল হলে কনফিডেন্ট ও টেনশন ফ্রি থাকবেন।

Online test লিসেনিং ও রিডিং প্র্যাকটিসের জন্য অসাধারণ একটা ওয়েবসাইট। এখানে অনলাইনে উত্তর লিখতে হয় এবং অটোম্যাটিক মার্কিং করে। মজার ব্যাপার হলো, কোন উত্তর ভুলে হলে সেটার এক্সপ্লানেশনও এখানে পাবেন।


লিসেনিং এর জন্য প্র্যাকটিস টেস্ট দিন। স্কোর ভাল না আসলে উত্তর সামনে নিয়ে রেকর্ডটা আবার শুনুন। খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন আপনি কি মিস করেছেন এবং কেন উত্তর অন্যটা হবে। এই প্র্যাকটিসটা চালিয়ে গেলে বুঝতে পারবেন কোন ধরণের প্রশ্নের ক্ষেত্রে কোথায় খেয়াল রাখতে হয়। যেমন, ফিল ইন গ্যাপ্স এর ক্ষেত্রে Article, plural ‘s’ বলছে কিনা এ ব্যাপারে বেশী মনযোগী হতে হয়।

প্রতিটি সেকশন শেষে অতিরিক্ত সময়ে পরবর্তি সেকশনের প্রশ্ন পড়ে নিন। মাল্টিপল চয়েস এর ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও অপশন আগে থেকেই পড়ে নিন আর মনোযোগ দিয়ে শুনুন কোন কোন অপশন বাদ দিচ্ছে। রেকর্ডে সবগুলো অপশনের কথাই উল্লেখ থাকবে। কিন্তু কোনটা বাদ দেয় অথবা একটা অপশনের চাইতে অন্যটায় বেশী গুরুত্ব দেয়। এই পার্থ্যকটা ধরতে পারলে উত্তর সঠিক হবে। Section-4 এর প্রশ্নগুলো paraphrased করা থাকে। অডিওতে exact keyword বলেনা। তাই প্রশ্ন পড়ে মিসিং ইনফরমেশন কি সেটা বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী উত্তর লিখতে হবে।

Spelling mistake এড়াতে লিসেনিং এর বারবার আসে এমন wordlist মুখস্ত করে নিন।

Reading:

রিডিং এ ভাল করতে হলে Reading Understanding বাড়াতে হবে। শুধু Cambridge Practice test এর জন্য যথেষ্ট নয়। Reading skill improvement এর জন্য সহায়ক বই পড়া জরুরী যেখানে প্রতিটা question type নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্র্যাকটিস দেওয়া আছে। পুরো টেস্ট না দিয়ে পারটিকুলার Question Type নিয়ে কাজ করে দক্ষতা বাড়ান। T,F,NG এ সমস্যা থাকলে বেশী বেশী ওটা practice করুন। মুর্দাকথা সব ধরণের প্রশ্ন একসাথে practice না করে একটা একটা নিয়ে কাজ করা বেশী ইফেক্টিভ। কনফিউজিং question type গুলোয় আন্ডারস্টেন্ডিং ক্লিয়ার জন্য youtube থেকে ৩, ৪ টা ভিডিও দেখে নিতে পারেন।


রিডিং আনসার করার ক্ষেত্রে, দুই-আড়াই মিনিটের মধ্যে প্রত্যেক প্যারাগ্রাফের প্রথম ও শেষ লাইন পড়ে পুরো পেসেজে চোখ বুলিয়ে নিলে কোন ইনফরমেশন কোথায় আছে সে সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। এরপর প্রশ্ন পড়ে keyword ধরে পেসেজ থেকে উত্তর বের করা সহজ হয়। রিডিং এ চার ধরণের (True, False, Not Given/ Yes, No, NG; Sentence completion; Short answer; Multiple choice) প্রশ্নের উত্তর same order as the passage অনুসারে হয়। তাই এগুলোর উত্তর করা তুলনামূলকভাবে সহজ। প্রথমটা পেলে পরের গুলা পাওয়া যায়। অন্য প্রশ্নগুলোর উত্তর পেসেজের বিভিন্ন অংশে ছড়ানো থাকে। সেগুলো বেশী কনফিউজিং ও সময় সাপেক্ষ। বুঝে প্র্যাকটিস করলে এধরনের প্রশ্নে ভাল করা যায়।


রিডিং প্র্যাকটিস এর সময় প্যাসেজ দাগিয়ে পড়ুন। Exam library ওয়েবসাইট রিডিং প্র্যাকটিসের জন্য বেস্ট। এখানে বিভিন্ন কালার দিয়ে পেসেজ হাইলাইট করা যায় এবং ভুল উত্তরগুলোর এক্সপ্লানেশন পাওয়া যায়। রিডিং এর জন্য Pauline Cullen এর ‘The key to IELTS success’ বইটা বেশ কাজের।

IELTS সম্পর্কে বেসিক ধারণা পেতে Shamir Montazid এর ভিডিওগুলো দেখুন।

‘কঠিন অনুশীলন, সহজ পরীক্ষা’ এই মন্ত্র নিয়ে প্র্যাকটিস চালিয়ে যান। আশাকরি সফল হবেন। শুভকামনা সকল IELTS পরীক্ষার্থীর জন্য।


এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ থেকে করতে পারেন

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।