IELTS Reading

লিখেছেনঃ আবরার ফাহিম



সময


আইএলটিএস রিডিং মডিউলে তিনটা পেসেজ থাকে। মোট কোয়েশ্চান থাকে ৪০ টা, সময় ১ ঘণ্টা। প্রতিটা পেসেজ পড়ে সল্ভ করার জন্য সময় ২০ মিনিট করে। কিন্তু হিসেবটা আসলে এভাবে হবে না। কারণ তিনটা পেসেজের ডিফিকালটি লেভেল ভিন্ন। প্রথম পেসেজটা তুলনামূলকভাবে সহজ, পরেরটা একটু কঠিন, আর শেষেরটা মুটামুটি হিব্রু। তাই প্রথম পেসেজ ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করা উচিত। এরপরেরটা ২০ মিনিট আর শেষেরটা ২৫ মিনিটে। রিডিং সেকশনে আনসার সাথে সাথে আনসার স্ক্রিপ্টে তুলে ফেলতে হবে। কারণ লিসেনিং এর মত এক্ষেত্রে আনসার ট্রান্সফার করার জন্য আলাদা কোন টাইম দেয়া হয় না।


রিসোর্স


১। আই এল টি এস রিডিং এর প্র্যাকটিসের জন্য কেমব্রিজের বইয়ের চাইতে ভাল কোন বই হতে পারে না। কেমব্রিজ ৭-১৩ এর সবগুলা রিডিং শেষ করা চাই।


২। একটু ট্রিকি রিডিং পেজেস সলভ করতে চাইলে ক্যমব্রিজ অবজেক্টিভ সেলফ স্টাডি স্টুডেন্টস বুক (এডভান্সড) দেখতে পারেন।


আগে প্রশ্ন নাকি পেসেজ?


রিডিং এর কোয়েশ্চান আনসার করার জন্য দুইটা পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। এক হচ্ছে প্রথমে পেসেজ পড়ে তারপর আনসার করা অথবা প্রথমে কোয়েশ্চানগুলা দেখে আসা আর তারপর আনসার করা। একেকজন একেক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। যার যেটাতে সুবিধা।


স্ক্যনিং/স্কিমিং


রিডিং আসলে দুই ধরনের। স্ক্যনিং আর স্কিমিং। স্ক্যনিং হচ্ছে একদম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ডিটেইলস সহ দেখা, আমরা সচরাচর যেভাবে পড়ে থাকি আরকি। স্ক্যনিং এর অসুবিধা হল এতে সময় লাগে বেশি।আর খুব খুব ভাল রিডার না হলে আইএলটিএস এর জন্য এই পদ্ধতি বিপদের কারণ হতে পারে, কারণ স্ক্যনিং আপনার সব সময় খেয়ে নিবে। (সো, বাতিল)


স্কিমিং হচ্ছে জাস্ট উপরে উপরে পড়ে যাওয়া আর মেইন আইডিয়া টা নেওয়া। স্কিমিং এর পর মুটামুটি পেসেজটা কি নিয়ে? কি কি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এসব বুঝা গেলেই হল। স্কিমিং এর মূল উদ্দেশ্য আসলে প্রশ্নের উত্তর দেয়া নয়। বরং প্রশ্ন পড়ে এসে পেসেজে তাড়াতাড়ি উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য এটা উপকারী। একটা পেসেজ স্কিমিং এর জন্য সরবোচ্চ সময় নেয়া যেতে পারে ২-৩ মিনিট। কারণ আপনি স্কিমিং করেই কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না। আপনাকে স্কিমিং এর পর প্রশ্নগুলা পড়ে পেসেজে এর উত্তর খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে ১-২ টা কি-ওয়ার্ড নিয়ে পেসেজে সেই ওয়ার্ড/ এর সিণোনিম খুঁজতে হবে। যেই লাইনে এই ওয়ার্ডগুলা খুঁজে পাওয়া যাবে খুব সম্ভব সেই লাইনেই আনসার আছে।


স্কিমিং এর ২-৩ মিনিটের মধ্যে যে বিষয়গুলা খেয়াল রাখলে পরে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সহজ হবেঃ


- কোন সাল আছে কি না? থাকলে কোন অর্ডারে আছে


- কোন প্যারাতে এ কোন ব্যক্তির নাম আছে কিনা। কারণ পরে স্ট্যটমেন্ট ম্যাচিং (কোন ব্যক্তির স্ট্যটমেন্ট কোনটি) এ কাজে দিবে।


- কোন প্যারাগ্রাফ এর মূল বিষয় কি। যেমন ক্যমব্রিজ ১২ টেস্ট ১ রিডিং পেসেজ ১ এ কর্ক সম্পর্কে বলা হইছে। প্রথম প্যারাগ্রাফ ছিল কর্কের বৈশিষ্ট্য নিয়ে (এটা ইলাস্টিক এগুলা) । ২য় প্যারাগ্রাফ ছিল কর্ক গাছের বিবরণ নিয়ে। স্কিমিং এর সময় প্যারাগ্রাফের পাশে এর মূল কিওয়ারড/বিষয় বাংলা/ইংলিশে লিখে রাখা যেতে পারে। পরে উত্তরের জন্য প্যারাগ্রাফ যাতে সহজেই টার্গেট করা যায়। (আইএল্টিএস এর প্রশ্নপত্রে আঁকিবুঁকি করা যায় কোন সমস্যা নেই )


প্রশ্নের ধরণ


রিডিং এ যে প্রশ্নগুলা অর্ডার ফলো করেঃ

  1. All types of gap-fill (sentences, summaries, diagrams etc.)

  2. True, false, not given

  3. Yes, no, not given

  4. Multiple choice

  5. Matching sentence endings

  6. 'Short answer' questions

যেগুলা অর্ডার ফলো করে নাঃ

  1. Matching paragraph headings

  2. Which paragraph contains the information?

  3. Matching names with statements or information

অর্ডার ফলো মানে কি?


ধরুন ট্রু ফলস এর 1 no. কোয়েশ্চান এর আনসার পেলেন প্যারাগ্রাফ C তে। যেহেতু ট্রু ফলস অর্ডার ফলো করে তাই 2 no কোয়েশ্চান এর আনসার প্যারাগ্রাফ A বা B তে খোজ করার দরকার নেই। 2 no এর আনসার C থেকে শুরু করে পরের যেকোন প্যারাগ্রাফে হতে পারে। আবার ধরেন 3 no question এর আনসার খুঁজে পেলেন E তে। সেক্ষেত্রে 4 no এর আনসার এর জন্য E থেকে শুরু করের এর পরের প্যারাগ্রাফগুলা দেখতে হবে। কারণ এর আগের প্যারাগ্রাফগুলাতে এর আনসার থাকবে না।


লিস্ট অফ হেডিংস (হেডেকের কারণ)


লিস্ট অফ হেডিংস এর ক্ষেত্রে অনেকেরই ভয় কাজ করে। একটু খেয়াল করলে কিন্তু লিস্ট অফ হেডিংস এ ভাল করা যায়।


-পেসেজ পড়ার আগে সবগুলা প্রশ্ন না পড়লেও কি টাইপের প্রশ্ন আছে সেটা দেখে আসা উত্তম।


-লিস্ট অফ হেডীংস দেখলে হেডিংস গুলা পড়ার একদমই দরকার নেই। জাস্ট জানা গেল যে এই পেসেজ এ লিস্ট অফ হেডিংস আছে।


-এবার পেসেজে এসে স্কিম রিডিং (উপরে উপরে পড়া) এর দরকার নেই। প্রথমেই স্ক্যন রিডিং( মন দিয়ে পড়া) শুরু করা যেতে পারে। প্যারাগ্রাফ এর প্রথম দুই লাইন আর শেষের এক-দুই লাইন আগে পড়ে দেখতে হবে মূল আইডিয়াটা ক্লিয়ার হয়ে গেছে কি না। ক্লিয়ার হয়ে গেলে কি বুঝলাম তা প্যারাগ্রাফ এর পাশেই লিখে রাখতে হবে। আর আইডিয়া ক্লিয়ার না হলে পুরা প্যারাগ্রাফ মন দিয়ে পড়ে নিজের মাথায় যে হেডিং আসে তা প্যারাগ্রাফ এর পাশেই লিখতে হবে


- সব প্যারাগ্রাফ এর পাশে নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত হেডিং লিখার পর তা প্রশ্নের হেডিং এর সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। দেখা যাবে তা প্রশ্নের ৬০-৭০ পার্সেনট কোয়েশ্চান এর হেডিং এর সাথে প্রায় মিলে গেছে। যেগুলা মিলে গেছে সেগুলা যে সঠিক সে ব্যপারে সন্দেহ না থাকাই ভাল।


- এবার বাকি প্যরাগ্রাফগুলা (যেগুলার হেডিংস মিলে নাই) পড়ে প্রশ্নের হেডিংস এর সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। বাকি ২-৩ টা হেডিংস এর উত্তর ও পেয়ে যাবেন।


** লিস্ট অফ হেডীংস এ আগে কেন প্রশ্নের হেডীংস পড়া যাবে না? কারণ, বেশিরভাগ সময় মনে হবে সব হেডীংস সব প্যারাগ্রাফের সাথেই যায়, যেটা খুবই কনফিউজিং।


ট্রু ফলস নট গিভেন


সত্য মিথ্যা দিবা রাত্রির মত, আপনি সহজেই একে আলাদা করতে পারবেন। প্রব্লেম হয় নট গিভেন এর ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে যা করা যেতে পারে।


  • আপনি তো স্কিম রিডিং এ দেখেই আসছেন কোন প্যারাগ্রাফ কি সম্পর্কে বলছে। ধরুন, প্রশ্নে একটা লাইন আছে কর্ক গাছের উচ্চতা নিয়ে। আপনি জানেন ২ নং প্যারাগ্রাফ এ কর্ক গাছের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছে। তাই এটা ২ নং প্যারাগ্রাফেই খুঁজুন। আপনি জানেন (স্কিম রিডিং থেকে) ৩ নং প্যারাগ্রাফে এটা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ ৩ নং প্যারাগ্রাফ লিখছে কর্ক গাছের জন্মস্থান বা স্থানান্তর নিয়ে। ৪ নং সহ বাকি প্যারাগ্রাফ গুলা অন্য কিছু নিয়ে। সো, উচ্চতার ব্যাপারটা ২ নং প্যারাগ্রাফে নেই মানে নট গিভেন। আর বাকি প্যারাগ্রাফ দেখার দরকার নেই।

ইয়েস/নো/নট গিভে


ট্রু ফলস থাকতে আবার এগুলা কেন? কারণ ট্রু ফলস এর আনসার সরাসরি পেসেজ থেকে পাবেন। আর ইয়েস/নো/নট গিভেন মূলত রাইটার এর দাবি/দাওয়া/অপিনিওন এসব। তাই পেসেজ পড়ে বুঝতে হবে রাইটার হারমাজাদা আসলে কি বলতে চাচ্ছে, সে আসলে কোন পক্ষে/মতাদর্শে বিশ্বাসী।


ম্যচিং নেইম উইথ স্ট্যটমেন্ট


কোন ব্যক্তির সাথে তার বানী/কথা মিলানো আরকি? দেখবেন নামগুলা সবসময় ক্যপিটাল লেটারে থেকই তাই পেসেজ এ চোখ রাখলেই নামগুলা আপনার চোখে পড়বে। কে কি বলছে দেখে নিয়ে আনসার করে ফেলুন। এটা কিন্তু অর্ডার ফলো করে না। ফলো করার দরকারও নাই। কারণ নাম আপনার চোখে পড়বেই।


মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চান


কোয়েশ্চন পড়ে অপশন পড়ার দরকার নাই। কারণ অপশন গুলা কনফিউজিং থাকে। পেসেজ পড়ে নিজ থেকে একটা আনসার ঠিক করেন। পরে যে অপশনের সাথে মিলে সেটাই লিখে দিন।


** কোয়েশ্চনের ইন্সট্রাকশন ভাল করে পড়তে হবে। অনেক ক্ষেত্রে লিখা থাকে one word only/ two word only/ no more than three word এসব।


ধরেন প্রশ্নে লিখা আছে two word only। এবং পেসেজ থেকে আপনার উত্তর “University of Dhaka”. সেক্ষেত্রে নিজ থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে একে "Dhaka University" তে দুই ওয়ার্ডে নিয়ে আসতে হবে।


** Fill in the blanks অনেক ক্ষেত্রেই গ্রামার নিয়ে প্রব্লেম হয়। আমি যেটা দেখেছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেসেজের ওয়ার্ড যে অবস্থায় আছে সেটাই সঠিক আনসার হয়। যেমন পেসেজ এ আছে "Dance". Fill in the blanks এ আনসার "Dancing " হওয়ার সম্ভাবনা কম।


** And এর আগে পরে ওয়ার্ড এর সেইম শট্রাকচার হয়। যেমন singing and laughing. এক্ষেতের singing and laugh. Or sing and laughed হবে না।


কত পাইলে কত?


বিঃ দ্রঃ উপরের পদ্ধতি/বুদ্ধি ফলো করতেই হবে এরকম কোন কথা নেই। কোন বিষয় ক্লিয়ারলি ডিসকাস না করতে পারার জন্য কমেন্টে জানাবেন।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।