Invitation Letter (Verpflichtungserklärung) For Relatives

লিখেছেনঃ মুহাম্মদ সাহেদুল আলম



অনেকসময় আমাদের ইচ্ছে জাগে আপনজনদের এই উন্নত রাষ্ট্র দেখাতে, কিন্তু সঠিক নিয়ম জানা না থাকার কারনে আর হয়ে উঠে না অনেক সময়ে। এ বছরের শুরুতে আমার শাশুরী এসছিলেন বনে। তাকে আনবার অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করছি সবার সাথে। হয়ত কারও কাজে লাগতে পারে। সবার আগে দরকার Invitation Letter (Verpflichtungserklärung), যা আমি Stadt Bonn - Ausländeramt থেকে নিয়েছি। এর জন্য যা যা করেছি:

১. অফিসে গিয়ে একটা এপোয়েনমেন্ট এর জন্য অনুরোধ করে, তারিখ নিয়েছি।

২. নির্ধারিত তারিখে দরকারী কাগজ (আমার গত তিন মাসের আয়, বাসার কন্ট্রাক্ট, বাসা ভাড়া দেবার কাগজ, আমাদের পাসপোর্ট, পাসপোর্ট এর কপি এবং এবং শাশুরীর পাসপোর্ট এর কপি, রেসিডেন্স কার্ড, মুটার পাস (যেহেতু আমাদের কারন বলা ছিল, আমার বউ সন্তানসম্ভবা। এরকম কোন শক্ত কারন হতেই হবে এমন কিছু না, একটু সবিধে পাবার জন্য নিয়েছিলাম) এবং ২৯ ইউরো নিয়ে তার কাছে গিয়েছি।

৩. অফিসারকে প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। সে শুধু বোঝাতে চেয়েছে, ফাকি দিয়ে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করে লাভ নেই কিন্তু!

৪. উনি সব দেখে আমার ইনকাম হিসেব করে দেখেছেন অল্প কিছু টাকা কম হয় (স্কলার মানেই ধনী নয়, জার্মানীতে DAAD স্কলাররা লো ইনকাম ক্যাটাগোরী )। এ ক্ষেত্রে অনুরোধ করলে অনেক সময় হয়। কিন্তু আমি রিস্ক না নিয়ে বিকল্প করতে বলি। আর সেটা ছিল, আমার শাশুরী নিজেই নিজের খরচ নিয়ে আসবেন, আর তা ঢাকা এ্যাম্বাসী ভেরিফাই করবে। ভিসা অফিসার খুব সহজে রাজি হয়েছেন।

৫. কাগজটা পাবার পর কুরিয়ার করতে গিয়েছিলাম। ডিএইচএল এক্সপ্রেস এ বেশ খরচ, নর্মাল পাঠালে সাত দিন লাগবে। এর ভেতর খোজ নিয়ে আমি পলাশ ভাইকে পেলাম। তার হাতে হাতে পাঠিয়ে দিলাম আসল Invitation Letter (Verpflichtungserklärung)। ফটোকপি কিংবা স্ক্যান গ্রহণ যোগ্য নয়।

এরপর তিনি এ্যাম্বাসী ফেইস করে ভিসা নিয়ে জার্মানী এসে ঘুরে গেলেন। ভিসার জন্য কি কি লাগবে তা তাদের ওয়েব পেইজে দেয়া আছে। অর্থনৈতিক সাপোর্ট এর জন্য তিনি একাউন্টের হিসেব এবং বাড়ির দলিল দেখিয়েছিলেন। বাংলা থেকে ইংরেজিতে কনভার্ট করে নোটারি করতে হয়েছিল। অনুবাদও করেছে বাসায় বউয়ের অনার্স ১ম সেমিস্টার পড়ুয়া ছোট ভাই। সুতরাও অফিসিয়াল ইংরেজি হইতে হবে, ওরকমও না ব্যাপারটা। বি.দ্র.: কাউকে ফ্যামিলি ভিসিট ভিসায় আনতে হলে সময় নিয়ে প্রসেস করা দরকার। আমি সময়ের অভাবে পরলেও, স্রস্টার রহমতে আর কিছু মানুষের সহযোগীতায় মোটামুটি অল্প সময়ে সবকিছু গুছিয়ে উঠিতে পেরেছিলাম। বিমানের টিকেট খরচ একটু বেশিই পরছে , যেহেতু ২ দিনের নোটিশে কাটা।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।