রোড টু রিসার্চ



এই গ্রুপটা অনেক বেশি হেল্পফুল। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ইনফরমেশন পেয়েছি যা অনেক কাজে লেগেছে আমার। ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এটাই আমার গ্রুপে প্রথম পোস্ট। যারা রিসার্চ করতে চান পোস্ট টা মূলত তাদের জন্য। যতদূর বুঝতে পেরেছি, জার্মানীতে পিএইচডি দুইভাবে হয়।


স্ট্রাকচারর্ড - যেখানে পুরো পিএইচডি সাজানো থাকে আর আপনি ক্রাইটেরিয়া কোয়ালিফাই করলে সেই সাজানো পিএইচডি তে এপ্লাই করতে পারবেন। স্ট্রাকচারর্ড পিএইচডি তে রিসার্চ প্ল্যান এ যা থাকে আপনাকে তাই করতে হবে।


আনস্ট্রাকচার্ড - পিএইচডি প্রোপোজাল থেকে শুরু করে সবাই আপনার নিজে ঠিক করে ঐ ফিল্ডে যে প্রফেসর কাজ করে তাকে মেইল করতে হবে। এরপর বাকি প্রসেসিং। এখানে আপনি আপনার প্লান মাফিক কাজ করতে পারবেন।

এই দুই পদ্ধতি ছাড়াও আরেকটা পদ্ধতি আছে। আর তা হচ্ছে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করা। আপনার কাজের ধরন এবং সময়কাল নির্ভর করবে আপনার কনট্রাক্ট এর ওপর। আপনি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কোনো ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টিতে সরাসরি কাজ করতে পারেন, কোনো রিসার্চ ফার্ম এ কাজ করতে পারেন কিংবা ইউনিভার্সিটি এবং রিসার্চ ফার্ম দুটো তেই কাজ করতে পারেন। ইউনিভার্সিটিতে কাজ করলে আপনি মূলত আপনার রিসার্চ এর পাশাপাশি বিভিন্ন ল্যাব এর এক্সারসাইস, ব্যাচেলর থিসিস, মাস্টার্স থিসিস, টিম প্রোজেক্ট কিংবা সেমিনারে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এতে করে আপনি ফুল টাইম জব ও করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে পিএইচডি করাটাও আপনার সহজ হবে। এখন আসি কোথায়, কখন এবং কিভাবে অ্যাপ্লাই করবেন সে প্রশ্নে।

https://www.glassdoor.de https://euraxess.ec.europa.eu/jobs/search

glassdooor এবং euraxess এই দুটো সাইট এই আপনি আপনার ফিল্ড সিলেক্ট করে দেয়ার পর যত ওপেনিং আছে তা দেখতে পারবেন। আরও অনেকগুলো সাইট আছে কিন্তু তার মাঝে এই দুটো আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। glassdoor এর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশানও আছে। আপনি চাইলে গুগল প্লে ষ্টোর থেকে সহজেই ইন্সটল করে নিতে পারবেন।


রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করতে গেলে আপনার মাস্টার্স কমপ্লিট থাকতে হবে। মাস্টার্স শেষ হবার আগেও আপনি অ্যাপ্লাই করতে পারেন যদি কন্ট্রাক্ট শুরু হবার আগে আপনার পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে। আপনার জার্মান মাস্টার্স হতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আপনার যদি দেশের এক বছরের মাস্টার্স হয় সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যাচেলর যে অনার্স সহ সেটার প্রমাণ দিতে হবে। মূলত যে ব্যাচেলর চার বছরের হয় এবং যেখানে থিসিস কিংবা প্রজেক্ট করতে হয় (বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে) সেই ব্যাচেলর কে উইথ অনার্স ধরা হয়। ব্যাচেলর যদি তিন বছরের হয় তাহলে সেই ব্যাচেলরকে উইদআউট অনার্স ধরা হয়। অনার্স এর কথা যদি আপনার সার্টিফিকেটে লিখা না থাকে তাহলে আপানার ইউনিভার্সিটি থেকে আপনার ব্যাচেলর যে অনার্স সহ তার স্বপক্ষে লিখিত কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।


বেশির ভাগ অ্যাপ্লিকেশানই আপনি অনলাইনে করতে পারবেন। প্রতিটা অ্যাপ্লিকেশান এর প্রসেস জব সার্কুলার এর সাথেই দেয়া থাকে। ডেডলাইনের কথা অবশই মাথায় রাখবেন। অ্যাপ্লিকেশান করার সময় আপানার এডুকেসনাল সার্টিফিকেট, জব এক্সপিরিএন্স লেটার এর পাশাপাশি অবশ্যই মোটিভেশন লেটার সাবমিট করতে হবে। মনে রাখবেন, মোটিভেশন লেটার এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার পাশাপাশি যদি আপনার রিসার্চ এর কাজে আগে থেকেই অভিজ্ঞতা থাকে আর যদি আপনার নিজের কিছু পাবলিকেশন থাকে তাহলে তাহলে বাকি ক্যান্ডিডেট থেকে আপনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন। সবাইকে শুভকামনা।


মারজান তাসনিম ঐশী রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি অফ ড্রেসডেন, জার্মানি।


* মূলত BESSiG ফেইজবুক গ্ৰুপ এর জন্য লেখা।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।