Social and Political Science এর স্টুডেন্ট হিসেবে জার্মান NGO তে কাজ করার বিভিন্ন সিক্রেট



আপনি যখন এখানকার NGO তে ভলান্টিয়ার হবার জন্য মিটিংয়ে জয়েন করবেন, সবার আগে ইমেইলে বা টেলিফোনে অথবা ফেইসবুকে জানিয়ে রাখলে ভালো হয় যে, আপনি মিটিংয়ে যাচ্ছেন। তাতে তারা ইংরেজিতে কনভারসেশন করার জন্য কাউকে রাখতে পারে। আবার না জানিয়ে রাখলেও অসুবিধা নেই। তবে অবশ্যই মিটিংয়ের একটু আগে যাবেন। এবার আসল পার্ট শুরু। মিটিংয়ের আগেই আপনাকে সবাই বিভিন্ন প্রশ্ন দিয়ে বুঝার চেষ্টা করবে কেনো আপনি ইন্টারেস্টেড, কোন টপিকের উপরে আপনি আগ্রহী, কেনও আপনি এই অর্গানাইজেশনের উপরে আগ্রহী, বিদেশী হিসেবে আপনি কত সচেতন ইত্যাদি।

তাই আগে থেকে এসবের উত্তর আপনি তৈরি করে নিয়ে যাবেন। আপনি যখন আপনার আগ্রহের কথা বলবেন তখন কিছু কমন টপিক অবশ্যই রাখবেন যেমন পরিবেশ সুরক্ষা, মানবাধিকার, নারী অধিকার, বাল্য বিবাহ বন্ধে সচেতনতা, বাচ্চাদের শিক্ষার ব্যাপারে আপনার আগ্রহ ইত্যাদি। আপনি অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিবেন কোন টপিকের উপরে কথা বলবেন। কোন টপিক না আসলেও আপনি বলবেন আপনি আগে থেকেই এসব ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশে ইউনিতে পড়া অবস্থায় কাজ করেছেন। এখন জার্মানিতে আসার পরে আপনার হাতে ফ্রী সময় আছে। তাই আপনি এখানে সে সময় কাজে লাগাতে এসেছেন। বলবেন এটা আপনার হবি, আবার এই হবিটা অনেক সময় নেশার মতো হয়ে যায়। পারলে ইউনিতে থাকাকালীন কিছু কাজের কথা বলবেন যেমন আপনি বিভিন্ন ক্যাম্পাইন করেছেন বা বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতেও আপনি এসব ক্যাম্পাইন করার ট্রাই করেছেন। কঠিন পরিস্থিতির বিভিন্ন বাঁধার কথা জার্মানরা শুনতে খুব পছন্দ করে। মিটিংগুলো সাধারণত জার্মান ভাষায় হয়। তখন ভাষা না বুঝলেও এবং বোরিং লাগলেও আপনি মিটিংয়ে থাকবেন। তবে আপনি লাকি হলে কেউ একজন আপনাকে ইংরেজীতে বুঝিয়ে দিবে। আপনি বলবেন আপনি জার্মান শিখছেন, তাই জার্মান ভাষা কোন অসুবিধা হবে না। দ্বিতীয় মিটিংয়ে চেষ্টা করবেন হালকা নাস্তা সবার জন্য নিয়ে যেতে। এটাতে সবাই ফ্রি হতে থাকবে। আপনার মূল কাজ তৃতীয় মিটিং থেকে শুরু হবে। আপনি নিজের থেকে কাজ চেয়ে নিবেন অথবা কোন গ্রুপের সাথে কাজ করতে চাইবেন। এতে সুবিধা হলো আপনার টীম আস্তে আস্তে আপনার সাথে ফ্রী হতে থাকবে। আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে ওরা যাতে আপনাকে অদের টিমের মূল একজন মনে করে। কোন মিটিংয়ে না যেতে পারলে খুব বিনয়ের সাথে আপনি দুঃখপ্রকাশ করে বলবেন কেনো আসতে পারছেন না। হুট করে যাওয়া বন্ধ করে দিবেন না। এভাবে আপনি কোনভাবে এক বা দুইটা সেমিস্টার কাটিয়ে দিবেন।

তারপরে এবার আপনার মূল ব্যাক্তিগত ক্যারিয়ারের কাজ শুরু। তৃতীয় বা চতুর্থ সেমিস্টারের ফাইনালের দিকে আপনি প্রথমে আপনার টীম লিডারকে বলবেন আপনাকে যেনও ঐ অর্গানাইজেশনে কাজ করেছেন এমন একটা অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট এবং একটা রেফারেন্স লেটার দেয়। ভালোভাবে বুঝিয়ে বললে সাধারণত দুইটাই তারা দিবে, কিন্তু তা জার্মান ভাষায় থাকবে। যদি দেখেন দুইটাই পাচ্ছেন, তাহলে বলবেন অভিজ্ঞতার অতিরিক্ত সার্টিফিকেট পারলে ইংরেজিতে দেবার জন্য। কারন এটা আপনি বাংলাদেশে পাঠাতে চান। ওখানকার NGO গুলোতে এটা লাগবে। যখন সার্টিফিকেট পাবেন, খেয়াল রাখবেন তাতে যাতে মোটামুটি এক বছর কাজ করেছেন এমন মনে হয়। এই জন্যই আসলে আপনি দুই সেমিস্টার তাদের পিছনে সময় দিচ্ছেন।

যখন প্রয়োজনমতো সার্টিফিকেটগুলো হাতে আসবে, তারপরে আপনার নেক্সট পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। আপনি প্রথমেই তাদের ওয়েবসাইটে যেয়ে তারা কোন ইন্টার্নশীপ বা কোন প্রজেক্ট বা আপনার পছন্দমতো কোন জব অফার করছে কিনা তা চেক করে দেখবেন। ধরলাম করছে, তখন আপনি আপনার টীম লিডারকে বলবেন আপনি ঐ পজিশন হঠাৎ করে নেটে দেখেছেন। আপনি যদি এই সুযোগ পান তাহলে সেইম অর্গানাইজেশনে আপনি খুব ভালোবোধ করবেন। তাই আপনার লিডারকে বলবেন সে যাতে আপনাকে রেফার করে (যদি সম্ভব হয়)। ধরলাম আপনার লিডার আপনাকে রেফার করতে রাজী হলো না, তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। আপনি নিজেই অনলাইনে আবেদন করে দিবেন। তাতে আপনি বলবেন আপনার টীম লিডার থেকেই আপনি এই পজিশনের কথা শুনেছেন। আপনি খুব খুশি আবেদন করতে পেরে ইত্যাদি। আর যখন মোটিভেশন লেটার লেখবেন, তখন মুলত ঐ অর্গানাইজেশনে আপনার আগের করা কাজকে ফোকাস করবেন। তার সাথে আপনার পরালেখা এবং দেশে করা কাজকে উল্ল্যেখ করবেন (যদি বলার মতো কিছু থাকে) খেয়াল রাখবেন, সব কিছু আপনি জার্মান ভাষায় লেখবেন। এমন কি আপনি জার্মান কম জানলেও।। আর যদি অন্য NGO তে আপনি জবের জন্য আবেদন করেন তাহলে আপনি ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা পুরো সময়কে অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরবেন। তার সাথে উল্লেখ করবেন কি প্রজেক্ট বা টপিক নিয়ে কাজ করেছেন। আগের লেখা পর্ব ১ আগের লেখা পর্ব ২


লেখার সূত্র লেখকের মগজ। লেখক Nur Mohammad এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে করতে পারেন।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।