Social sciences, Political sciences স্টুডেন্টরা পড়াশুনা করতে আসার পর কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন?



Social sciences, Political sciences স্টুডেন্টদের জন্য জার্মানিতে ক্যারিয়ার গড়তে চাওয়া হবে একটা চ্যালিঞ্জিং ব্যাপার। অন্য বিষয়গুলোর সাথে এই ফিল্ডগুলোতে পার্থক্য হলো এই রিলেটেড জব পাওয়া যেকোনো দেশেই কঠিন। আবার জবের পজিশন খুঁজে পেলেও জবের সংখ্যা কম। আবার সেই অল্প সংখ্যক জবের পজিশনে অন্য দেশি আবেদনকারীদের সাথে প্রতিযোগিতা খুবই তীব্র। অনেকেই মনে করে শুধু জার্মান ভাষা ভালো পারলেই এই রিলেটেড জবের অভাব হবে না, আসলে এটা ভুল ধারনা। জার্মান ভাষা যদি ভালভাবেও জানেন, কিন্তু নিজের পড়াশুনার বাহিরে আপনার যদি নিজেকে মেলে ধরার মতো কিছুই না থাকে, তাহলে জার্মানিতে Social sciences, Political sciences রিলেটেড ফুলটাইম চাকরী পাওয়া খুবই কঠিন হবে। আবার কিভাবে নিজেকে প্রথম থেকেই জার্মানিতে আসার পরপরই তৈরি করতে হবে তা নিয়ে কোথাও কোন সঠিক গাইড লাইন না থাকার কারনে আসলে সবাই অন্ধকারে থাকে। তাই আমি আমার নিজের চোখে দেখা বিভিন্ন জনের অভিজ্ঞতা এবং আমার ব্যাক্তিগত উপলদ্ধিকে এক সাথে করে এক বিস্তারিত এই রিলেটেড ক্যারিয়ার গাইডলাইন করার চেষ্টা করলাম। তার সাথে আপনাদের কারো কোন কিছু এড করার থাকলে দয়া করে এড করে দিবেন।

জার্মানিতে পড়াশুনা করতে আসার পরপর থেকে কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন?


সেমিস্টার ১। আসলে Social sciences, Political sciences স্টুডেন্টদের জন্য মূল ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি শুরু করতে হয় জার্মানিতে পড়তে আসার প্রথম সেমিস্টার থেকে। প্রথম সেমিস্টারে মুলত ক্লাস বা সাবজেক্ট বুঝা, বাসা, লাইব্রেরীর পাশাপাশি মূল কাজ হলো ইউনিভার্সিটিতে থাকা ফ্রিতে a1 লেভেলের জার্মান কোর্সে ভর্তি হয়ে যাওয়া। এই কোর্স সপ্তাহে এক বা দুই দিন এবং তা স্টুডেন্টদের জন্য ফ্রী। অনেকেই মনে করে আসার পরে পার্ট টাইম জব এবং নিজের মূল সাবজেক্ট রিলেটেড পড়াশুনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জার্মান ভাষার শেখার দিকে তেমন মনোযোগ দেয় না। ভাবে পরে সময় করে শেখা যাবে। এই থিওরী অন্য ডিসিপ্লিনের স্টুডেন্টদের জন্য কাজ দিলেও Social sciences, Political sciences স্টুডেন্টদের জন্য না। আমার মতে প্রয়োজনে প্রথম সেমিস্টারে মূল কোর্স থেকে এক বিষয় কমিয়ে নিয়ে হলেও জার্মান ভাষার কোর্স মোটেও মিস দেওয়া উচিৎ না।

সেমিস্টার ২। এই রিলেটেড স্টুডেন্টদের জার্মানিতে ক্যারিয়ারের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো কানেকশন। তাই দ্বিতীয় সেমিস্টারে একটু আধটু জার্মান জানার পরে মূল প্রস্তুতির কাজ শুরু। তখন পড়াশুনার পাশাপাশি জার্মান a2 কোর্সে ভর্তি হয়ে যাবেন এবং জার্মানির বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল NGO তে ভলান্টিয়ার হিসেবে সাইনআপ করবে (একাধিক NGO তে একসাথে নাম রেজিস্ট্রেশন করা যায় )। এই সব NGO গুলোতে মুলত প্রতি দুই সপ্তাহে একটা মিটিং হয় (মানে মাসে মাত্র দুইটা), চেষ্টা করবে ঐ মিটিং কোন ভাবেই মিস না করতে। তাতে আপনার নিজের পড়াশুনার বাহিরেও কোন প্রতিষ্ঠান কোন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে (কারন আপনি চিপের উপরে আসলে একাধিক NGOতে নাম দিয়ে রেখেছেন), আর কারা কারা এতে জড়িত, আর তারা কিভাবে পলিসি মেকিং করছে তার একটা ধারনা হয়ে যাবে। এই রিলেটেড NGO গুলোর মধ্যে Amnestry International, Extinction rebillion, WWf (World Wildlife Foundation), Diakonie, Caritas, Brot für die Walt, Greenpeace, Red Cross খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি পারলে একাধিক NGO তে নাম রেজিস্ট্রেশন করে তাদের সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক কোন ভলান্টিয়ার মিটিংগুলো মিস করবেন না। সেখানে আপনার শিখতে থাকা জার্মান ভাষার ভাঙ্গা ভাঙ্গা লেভেল আর তার সাথে ইংরেজিতে কথা বলা খুব ভালো কাজ দিবে। আর তারাও খুশি হবে আপনার জার্মান ভাষা শেখার ইচ্ছে এবং ইমপ্রুভমেন্ট দেখে। এটা এক দিকে যেমন আপনার জার্মান ভাষা দিনে দিনে ভালো করবে, তার সাথে আপনার জার্মান কলিগদের সাথে কানেকশন বাড়বে। আর NGO গুলোও আস্তে আস্তে আপনাকে কিছু কাজ দেওয়া শুরু করবে, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিস্টার ৩ এবং ৪। আপনার তৃতীয় সেমিস্টার এবং ফাইনাল সেমিস্টারে আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের মূল কাজ শুরু হবে। আশা করছি এই সময়ে আপনি জার্মান ভাষা বি১ লেভেল শিখছেন। তারমানে আপনি মোটামুটি কমিউনিকেশন করতে অসুবিধা হচ্ছে না এবং ইংরেজির উপরে আপনার নির্ভরতা কমে গেছে। আপনার বিভিন্ন NGO তে এতদিনে অংশগ্রহন করা মিটিং থেকে আপনি আন্দাজ করে ফেলেছেন কোন নির্দিষ্ট NGO এর কাজ বা পলিসি বা কানেকশন আপনার এম্বিশন বা ইচ্ছের সাথে যায়। আপনি এই দুই সেমিস্টারে শুধু ঐ একটা NGO তেই আপনার সব ভলান্টিয়ার কাজ এবং মেধা ইনভেস্ট করবেন। এই সময়ে আপনি তাদেরকে বলবেন, বাংলাদেশে এই রিলেটেড আপনার কি ধরনের আগে করেছেন, আর বর্তমানে আপনার সময় থাকার কারনে আপনি এই প্রতিষ্ঠানে কি কি কাজ করতে চান তা ক্লিয়ার করবেন। তাছাড়াও তাদেরকে নিজের কাজ দেখিয়ে যতো বেশি বিভিন্ন প্রজেক্টের বা কাজের দায়িত্ব নিতে পারেন আপনার ক্যারিয়ারের জন্য তত ভালো হবে। হয়তোবা আপনি এর জন্য টাকা পাচ্ছেন না, কিন্তু আপনার জন্য যা দরকার এখানে চাকরি পাওয়ার জন্য কানেকশন, সিভিতে লেখার জন্য জবের অভিজ্ঞতা সবই আপনি পাচ্ছেন। তবে আপনি এই সময়ে চেষ্টা করবেন যতো বেশি পারা যায় ইংরেজি বর্জন করে জার্মান ভাষায় সব কিছু করতে। খেয়াল রাখবেন কোন ভাবেই পার্ট টাইম জবের উসিলায় যেনো ঐ NGO তে হওয়া পাক্ষিক বা সাপ্তাহিক মিটিং মিস না হয়।

লেখার সূত্র লেখকের মগজ এবং কাছ থেকে দেখা অভিজ্ঞতা। আপনি উপকার পেলে আপনার বন্ধুদেরকেও এই গ্রুপে এড করে দিন যাতে তারাও উপকৃত হতে পারে।

টাইমলাইনে শেয়ার করতে চাইলে https://bit.ly/2LF6LFQ


লেখক Nur Mohammad এই লেখা পড়ার পরে কোন প্রশ্ন থাকলে বা মতামত দিতে চাইলে অথবা কাউকে ট্যাগ করতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে করতে পারেন।

Subscribe to Our Newsletter

© BESSiG. বিনা অনুমতিতে এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অন্য যেকোন ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।